
ঢাকা: যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (RJSC) থেকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, RJSC-এর বিভিন্ন সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা ব্যবসার ব্যয় ও অনিশ্চয়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে।মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (MCCI) সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, RJSC-কে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও সক্ষমতা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা যায়।তিনি প্রস্তাব করেন, কোনো আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যান না করা হলে সেটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হিসেবে গণ্য করা উচিত।
বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার ওপর গুরুত্ব দেন নিহাদ কবির। এ ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক ও ফেসিয়াল রিকগনিশনের মতো ডিজিটাল যাচাই ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান তিনি।তার মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের জন্য শেয়ার হস্তান্তরসহ RJSC-এর বিভিন্ন সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সরকার তাড়াহুড়ো করে কোম্পানি আইন সংস্কার করতে চায় না। এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।তিনি বলেন, এটি আমাদের সবার জন্য একটি পরিবর্তনের সময়। বাস্তব ভবিষ্যতের জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি করতে আমাদের ঠান্ডা মাথায় এবং সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এই সময়টি পার করতে হবে।
ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (ICC) বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বেসরকারি খাতের সঙ্গে সরকারের নিয়মিত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরামর্শের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।অন্যদিকে, বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (BCCI) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, সময়বদ্ধ সেবা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। তিনি RJSC-এর কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের ক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানান।
রাজধানীর মতিঝিলে FBCCI কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে খসড়া কোম্পানি আইন (তৃতীয় সংশোধনী) ২০২৬ নিয়ে আলোচনা করা হয়।ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা মনে করেন, RJSC-এর সেবায় নির্দিষ্ট সময়সীমা কার্যকর করা গেলে ব্যবসায়িক কার্যক্রম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হলে দেশ-বিদেশে থাকা উদ্যোক্তাদের জন্য কোম্পানি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়াও সহজ হবে।