সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ কোটি টাকাআগামী বাজেট দরিদ্রদের জন্য: অর্থমন্ত্রীসেবা পেতে রিটার্ন জমা স্লিপ বাধ্যতামূলক হচ্ছেএনবিআর লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়েব্যবসায়ীদের কাছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব চাইল এনবিআর
No icon

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৬৯ শতাংশ, যদিও সরকারের লক্ষ্য ছিল এই বার্ষিক মূল্যস্ফীতি গড়ে ৫ দশমিক ৪০ শতাংশের মধ্যে রাখা। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে যা ছিল ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বন্যা ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে পরে তা কমে আসে। বাংলাদেশের প্রণোদনা প্যাকেজ মূলত ব্যাংকঋণনির্ভর। এ ছাড়া নানা ধরনের নীতিগত ছাড় দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক মুদ্রা নীতি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের ছাড় ও ঋণের কারণে বাজারে ইতিমধ্যে টাকার প্রবাহ বেড়েছে। এতে নিকট ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়তে পারে। তবে দেশে সুদহার বাজারের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে না। সরকারি নির্ধারিত হারের আশপাশেই থাকছে সুদহার। ফলে বাজারের নিয়ম এখানে খাটছে না। প্রণোদনা ঋণের সুদের একটি অংশ সরকার বহন করছে। তাতে রাজস্ব ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিকল্প নেই বলেই মনে করেন অর্থনীতিবিদেরা।

অর্থনীতিবিদেরা বাজারে নগদ টাকার সরবরাহ বৃদ্ধির দাওয়াই দিয়ে আসছেন। তাঁদের ভাষ্য, মানুষের হাতে টাকার জোগান নিশ্চিত করতে এর বিকল্প নেই। কিন্তু সেই নীতির প্রতিক্রিয়ায় এখন মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদেরা বলেন, কিছুটা মূল্যস্ফীতি থাকা খারাপ নয়। এর অর্থ হলো, অর্থনীতিতে চাঞ্চল্য আছে। মূল্যস্ফীতির সম্পর্ক নিরূপণে বহুল ব্যবহৃত ফিলিপস কার্ভের সারকথা হলো, বেকারত্ব কম থাকলে এবং মজুরি ঊর্ধ্বমুখী হলে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হার বেশি হলে সমস্যা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তখন সুদহার বৃদ্ধি করে। এতে দীর্ঘ মেয়াদে ঋণ গ্রহণ কমে যায়। বিনিয়োগে প্রভাব পড়ে। ফলে এটা একধরনের উভয়সংকট।
দেশে সরকার সুদহার যতই নিয়ন্ত্রণ করুক না কেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হবেন। তাঁরা যদি না জানেন, বিনিয়োগ থেকে কতটা লভ্যাংশ পাওয়া যাবে, তাহলে তাঁরা বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না, এটাই স্বাভাবিক। এতে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে।
এ ছাড়া বৈশ্বিক পরিসরে মূল্যস্ফীতি বাড়লে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়বে।