আবারও ভোজ্যতেলের ভ্যাট ১৫ শতাংশপ্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর সুপারিশ মেট্রো চেম্বারেরউচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা উৎসে কর কর্তন: ব্যাখ্যা চেয়ে এনবিআরকে তিন ব্যাংকের চিঠিমিয়ানমারের অর্থনীতি পতনের দ্বারপ্রান্তে
No icon

রাজস্ব বাড়াতে নতুন কৌশলে এনবিআর

জিডিপির অনুপাতে কর আদায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকের তথ্যানুসারে, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ। অথচ নেপালের কর-জিডিপি অনুপাত ২২ দশমকি ৩৬ শতাংশ, লাওসের মতো দেশের কর-জিডিপির অনুপাত ১৪ দশমকি ৮৪ শতাংশ, কম্বোডিয়ার কর-জিডিপি ২৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। দেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে রাজস্ব আহরণ বাড়াতেই হবে।দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদে সরকারের বিনিয়োগ ও ব্যয়ের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা বাস্তবায়নে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তাই বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও কর ফাঁকির ক্ষেত্রসমূহ দূর করতে রাজস্ব ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চায় সরকার। এতে বাড়বে কর-জিডিপির অনুপাত। নতুন কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আয়কর ও ভ্যাটের আওতা আরও বাড়ানো, ভ্যাট রিটার্ন শতভাগ অনলাইনে দাখিল করা, উৎসে কর কর্তনের অনলাইন ব্যবস্থা সর্বস্তরে প্রচলন, অনলাইনে কর প্রদানে সব ক্ষেত্রে এ-চালান প্রচলন, ডিজিটাল আয়কর নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালু, কর আহরণে কর কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর দেওয়ার পদ্ধতি সহজ করা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র এ তথ্য জানা গেছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। অর্থনীতিতে যে সংকট চলছে, তা মোকাবিলায় রাজস্ব আদায় বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ফলে অর্থবছরের শুরুতেই নানামুখী প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে এনবিআর। গত মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল এনবিআর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে রাজস্ব আদায় বাড়াতে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির পরামর্শ দেয় সংস্থাটি। আগামী অক্টোবরে আইএমএফের সঙ্গে সরকারে সাড়ে চারশ কোটি ডলারের ঋণ নিয়ে আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। এতে গুরুত্ব পাবে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর বিষয়টি।

ভ্যাট ও করের ভিত্তি সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর। চলতি বছরের মধ্যে এ সংখ্যা এক কোটিতে উন্নীত করতে চায় এনবিআর। বর্তমানে ১০০ উপজেলায় কর অফিস আছে। দেশের সব উপজেলায় কর অফিস চালুর জন্য নতুন জনবল দরকার। এরই মধ্যে নতুন জনবল কাঠামো অনুমোদনের বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আছে। ঘরে বসে যাতে করদাতারা আয়কর রিটার্ন দিতে পারেন, সে জন্য একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এটি অনেকটা অ্যাপসের মতো হবে। নিবন্ধন নিয়ে ওই ওয়েবসাইটে ঢুকে ঘরে বসেই রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। এমনকি আয়-ব্যয়সংক্রান্ত কিছু তথ্য দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিটার্নও তৈরি করে দেবে কর বিভাগের ওই সিস্টেম। চলতি বছরে এটি চালু হতে পারে বলে জানা গেছে।