TAXNEWSBD
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানাডার কিছু পণ্যে শুল্ক ছাড় দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:০৬ অপরাহ্ন
TAXNEWSBD

TAXNEWSBD

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর আরোপ করা ৫০ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গুরুত্বপূর্ণ একটি সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রিপাবলিকান প্রার্থী সুসান কলিন্স এ পরিবর্তনের জন্য লবিং করার কথা জানানোর পর এ ঘোষণা এল।শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানায়, আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে পাতলা কাঠের পাত, কিছু কাগজজাত পণ্য, নির্দিষ্ট ধরনের যন্ত্রপাতি ও হিমায়ন সরঞ্জামসহ কয়েকটি পণ্যে শুল্ক কমানো হবে।মেইন অঙ্গরাজ্যে সিনেট আসন ধরে রাখতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স প্রথম এ শুল্ক ছাড়ের কথা জানান। তার দাবি, এ সিদ্ধান্ত অঙ্গরাজ্যের কৃষিশিল্পকে সহায়তা করবে।গত আগস্টে দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর কানাডার প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে কয়েক দফায় শুল্ক আরোপ করে কানাডাও। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এসব পদক্ষেপকে আমাদের শ্রমিকদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।গত মাসে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন কার্নি। মার্কিন গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম আচরণ করা হচ্ছে এমন অভিযোগ তুলে ট্রাম্প প্রথমে শুল্ক আরোপ করেছিলেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক তুলে নেওয়া হলেও অন্য কিছু পণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হবে। শুল্ক ছাড় পাওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে কিছু প্যাকিং ক্রেট ও বাক্স। অন্যদিকে কার্পেট ও কিছু বর্জ্যজাত পণ্যে শুল্ক আরোপ করা হবে।হোয়াইট হাউসের ভাষ্য, মার্কিন শ্রমিকদের সুরক্ষা এবং ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ এ পদক্ষেপ। মুখপাত্র ম্যাথিউ মিডলটন বলেন, মার্কিন বাণিজ্যের প্রতি কানাডার বৈষম্যমূলক আচরণ মোকাবিলা করে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।বিবিসিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কানাডার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্ল্যাঙ্ক বলেন, সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো আমরা পর্যালোচনা করছি। কানাডার স্বার্থের প্রতি সম্মান রেখে পারস্পরিকভাবে আরও লাভজনক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গঠনমূলকভাবে ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে কানাডা প্রস্তুত।যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই সপ্তাহেরও কম সময় আগে এ ঘোষণা দেওয়া হলো। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে থাকবে, নাকি ডেমোক্র্যাটরা তা দখল করবে। এর ওপর ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরের নীতিনির্ধারণও প্রভাবিত হবে।কলিন্স বলেন, শুল্ক ছাড়ের জন্য তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত শুল্ক ছাড় আদায় এবং কানাডার সঙ্গে বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তি উৎসাহিত করতে আমি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ চালিয়ে যাব। কানাডা আমাদের প্রতিবেশী, মিত্র ও সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে কলিন্স বলেন, শুল্ক ছাড় পাওয়া পণ্যগুলো মেইনের কৃষিশিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে ব্লুবেরি, আলু, আপেল ও সামুদ্রিক শৈবাল উৎপাদন খাত।তবে কলিন্সের ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসন এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ মেইনের মানুষের জীবনকে আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল করেছে। সুসান কলিন্স এই বিশৃঙ্খলাকে সমর্থন দিয়েছেন, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে ভোট দিয়েছেন। এখন আগুন নেভাতে এক কাপ পানি এনে কৃতিত্ব নিতে চাইছেন।মেইন অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে কানাডার নিউ ব্রান্সউইক ও কুইবেক প্রদেশের সীমান্ত রয়েছে। মেইনসহ সীমান্তবর্তী অঙ্গরাজ্যগুলোর অর্থনীতি কানাডার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ফলে কয়েক মাস ধরে চলা বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব এসব অঞ্চলে পড়েছে।শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে কানাডা খুব জোরেশোরে কাজ করছে । অন্যদিকে কার্নি জানান, পারস্পরিক সুবিধাজনক চুক্তিতে পৌঁছাতে কানাডা আগ্রহী, তবে প্রয়োজনে অপেক্ষা করতেও প্রস্তুত।কানাডার সম্প্রচারমাধ্যম সিবিসির বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত থাকলে আমরা আজ বিকেলেই চুক্তি সই করতে পারি। যদি সঠিক চুক্তি করতে কয়েক মাস বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়, এমনকি অন্য কোনো প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়, তবুও আমরা তা করব।এদিকে লেব্ল্যাঙ্ক বৃহস্পতিবার নিশ্চিত করেন, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছে। ২০২৬ সালের এপ্রিলের পর এটি ছিল কমিটির নবম বৈঠক। এতে কানাডার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের চলমান প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।