TAXNEWSBD
৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি, জামাল ইয়ার্নের বিরুদ্ধে মামলা
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৩৮ অপরাহ্ন
TAXNEWSBD

TAXNEWSBD

প্রায় ৪০ কোটি টাকা মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির অভিযোগে জামাল ইয়ার্নের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেট। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানটি সুতা বিক্রির বিপরীতে নামমাত্র চালান দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছিল। গত পাঁচ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি এ অনিয়ম করে আসছে বলে কর্মকর্তাদের পরিদর্শনে উঠে এসেছে।বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা।ভ্যাট কমিশনারেট সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ ভ্যাটের কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিতে আকস্মিক পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানে মজুত থাকা মালামাল ও হিসাব ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানটি মূল্য সংযোজন কর (মূসক) সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলাদি নিবারক দলের কাছে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে কয়েকটি রেজিস্টার, খাতা, চালান বই, গার্ড ফাইল এবং কম্পিউটারে সংরক্ষিত এক্সেল ফাইলের কপিসহ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিবৃতি জব্দ করে ভ্যাট কমিশনারেটের কার্যালয়ে নিয়ে আসেন কর্মকর্তারা।

প্রাথমিকভাবে জব্দ করা দলিলাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী পণ্য বিক্রির সময় কোনো মূসক চালান ইস্যু করত না।তবে জব্দ করা দলিলাদিতে থাকা সুতা বিক্রির বিবরণী অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রয়ের পরিমাণ ৬৫৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ টাকা। এর বিপরীতে ৫ শতাংশ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ভ্যাটের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪২ টাকা।অন্যদিকে, ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাখিলপত্রে (মূসক-৯.১) প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩০ টাকার বিক্রয় দেখিয়েছে। একই সময়ে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা দিয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। ফলে গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটির কাছে সরকারের মোট ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা ভ্যাট বকেয়া রয়েছে, যা আদায়যোগ্য।

ভ্যাট কমিশনারেটের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের কার্যক্রম মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ১৫, ৩২, ৪৫, ৪৯ ও ৬৪ এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬-এর বিধি ২৫, ৪০, ৪২ ও ৪৭-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৮৫-এর (ছ), (ঞ), (ট) ও (ড) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ফাঁকি দেওয়া ভ্যাট, জরিমানা এবং আইনের ১২৭ ধারা অনুযায়ী সুদ আদায়ের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির মামলা করা হয়েছে।