TAXNEWSBD
সোয়া ৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট আগামী অর্থবছরে
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ০১:০১ পূর্বাহ্ন
TAXNEWSBD

TAXNEWSBD

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাজেট প্রস্তুতের জন্য সময় পাবে প্রায় সাড়ে তিন মাস। তখন বাজেট প্রণয়ন সম্পর্কিত চাপ কমাতে এবং নীতিগত দিকনির্দেশনা দিতে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী অর্থবছরের সম্ভাব্য ব্যয়, রাজস্ব ও উন্নয়ন কাঠামো নিয়ে একটি খসড়া রূপরেখা প্রণয়ন করে যেতে চায়। এ রূপরেখা চূড়ান্ত বাজেট প্রস্তুত করতে নির্বাচিত সরকারের জন্য সহায়ক হবে। এই রূপরেখায় ব্যয় সাশ্রয়ী, রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা ও মাঝামাঝি অবস্থানÑ এই তিনটি দৃষ্টিকোণ থেকে সোয়া সোয়া আট কোটি, সাড়ে আট লাখ কোটি অথবা পৌনে ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের সুযোগ রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে আগামী অর্থবছরেও ব্যয় সাশ্রয়ী বাজেটের পক্ষে মত দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দেশের নিজস্ব অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় বৈদেশিক ঋণ এড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির নির্দেশনাও দিয়েছেন। আগের বছরে শিক্ষার পরিমাণ বাড়লেও মান হ্রাস পেয়েছে। তাই বাজেট প্রণয়নে কোয়ালিটি এডুকেশনের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। পল্লী উন্নয়ন ও কৃষক সহায়তা বৃদ্ধির কথা বলেছেন। তরুণদের প্রতি ফোকাস রাখার নির্দেশনাও দিয়েছেন। বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। আর নারী ক্ষমতায়ন এবং নারীদের ওপর বাজেটের গুরুত্ব বাড়ানো হবে, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

জানা গেছে, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তিনটি বিবেচনা বাজেট রূপরেখার খসড়া তৈরি করেছে অর্থ বিভাগ। এর প্রথমটি হচ্ছে ব্যয় সাশ্রয়ী বাজেট। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কঠোর পদক্ষেপ নিলে ব্যয় সাশ্রয়ী বাজেটের আকার হতে পারে সোয়া আট লাখ কোটি টাকা। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাজেট প্রণয়ন। এই বিবেচনায় কর্মসংস্থান ও প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিলে বাজেটের আকার আট লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। তৃতীয়ত, ব্যয় সাশ্রয় ও রাজনৈতিক বিবেচনার মাঝামাঝি অবস্থান থেকে বাজেট প্রণয়ন। এক্ষেত্রে বাজেটের আকার হতে পারে সাড়ে আট লাখ কোটি টাকা। মাঝামাঝি অবস্থান থেকে যাতে বাজেট প্রণয়ন করা যায়, সেই সুযোগও রূপরেখায় রাখছে অন্তর্বর্তী সরকার।

জানা গেছে, আগামী বাজেটের এডিপির সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা। তবে মোট বাজেটের আকার পরিবর্তন হলে এডিপিও সে হারে সমন্বয় হবে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ও ৬ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, ২০২৫ সাল শুরুর আগে থেকেই নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে অর্থ বিভাগ ও এনবিআর সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবে। এসব বৈঠকে উঠে আসা সুপারিশের প্রতিফলন রাখা হবে বাজেটে। বাজেট বক্তৃতায় বিভিন্ন খাতে নেওয়া সংস্কার কমিশন ও কমিটিগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা থাকবে।

জানা গেছে, দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রপ্তানি আয় এখন কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে। অন্যদিকে রেমিট্যান্স আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে রিজার্ভে। তবে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে তেমন সুখবর নেই। মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্ক থেকে নেমে এলেও স্বস্তি ফিরে আসেনি। এ অবস্থায় বাজেট প্রণয়নে কৌশলী ভূমিকা নিতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। কারণ, নতুন বাজেটের আকার ও নীতি চূড়ান্ত করবে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার। চলমান সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যয় সংকোচন নীতি অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হবে।

সূত্র জানায়, আর্থিক খাতের দুরবস্থা, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে আরও অন্তত এক বছর ব্যয় সংকোচন নীতি অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছে অর্থ বিভাগ। সরকারের সম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও এ রকম নীতির কথাই বলা হয়েছে। সবশেষ অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত কো-অর্ডিনেশন কাউন্সিলের বৈঠকে এমন নীতি অবলম্বনের কথা বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করায় গত বছর (২০২৪-২৫) সরকারের পাঁচ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ বছরও উল্লেখযাগ্য অঙ্কের সাশ্রয় হবে বলে প্রত্যাশা করছে অর্থ বিভাগ। এই বছর বাজেটের আকার কমিয়ে ধরা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া উন্নয়ন-অনুন্নয়ন উভয় খাতের ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরেছে। এ জন্য আসছে বছরও কম ব্যয়ের বাজেট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে অর্থবিভাগ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৬ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়। এটি বাড়িয়ে ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন সাড়ে ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। দেশে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ না হওয়ায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কমানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটের আকার সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। শুরুতে এই বাজেট কাটছাঁট করে সাত লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনার চিন্তা ছিল। তবে সুদ পরিশোধ ও ভর্তুকি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, ব্যাংক একীভূতকরণে মূলধন সহায়তা, সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর পাশাপাশি নানা ক্ষেত্রে সরকারের পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এখন আর বড় ধরনের কাটছাঁটের পরিকল্পনা নেই।

ইতোমধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে মূল বাজেটের আকার তেমন না কমলেও সংশোধিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমানো হয়েছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতিবারের মতো এবারও এই কাটছাঁটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার হতে পারে ২ লাখ কোটি টাকা।