
ব্যক্তি খাতে সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সুপারিশ করেছে জাতীয় রাজস্ব সংস্কার টাস্কফোর্স। একই সঙ্গে বেতন, সুদ, লভ্যাংশ ও তালিকাভুক্ত শেয়ারের মূলধনি লাভ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে ধীরে ধরে উৎসে কর প্রত্যাহার করার পরামর্শ দেওয়া হয় টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে। এ ছাড়া বাণিজ্য করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হার এক-চতুর্থাংশে নামিয়ে আনা দরকার।গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন টাস্কফোর্স ও পিআরআইর চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার। এ সময় টাস্কফোর্সের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উন্নয়নের জন্য করনীতি: কর ব্যবস্থা পুনর্গঠনের একটি সংস্কার এজেন্ডা শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে টাস্কফোর্স প্রতিবেদনের মূল চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে। এর মধ্যে রয়েছে সংকীর্ণ কর জাল, ম্যানুয়াল কর প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং ত্রুটিপূর্ণ কর কাঠামো। প্রতিবেদনটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার এখনও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেনি।সংবাদ সম্মেলনে ড. জাইদি সাত্তার বলেন, করের হার বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়নি, বরং বিশেষ করে কর পরিপালনে উৎসাহিত করতে কিছু ক্ষেত্রে হার কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের বর্তমান গড় আমদানি শুল্কহার বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। বাণিজ্য করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে ২০৩৫ সালের মধ্যে এই হার এখনকার তুলনায় এক-চতুর্থাংশে নামিয়ে আনা দরকার।
এ প্রসঙ্গে ড. জাইদি সাত্তার বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের বাণিজ্য করের হার প্রায় ২৮ শতাংশ, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে সাড়ে সাত শতাংশে নামিয়ে আনা উচিত। তিনি বলেন, টাস্কফোর্স একক ভ্যাট হার প্রবর্তন এবং ন্যূনতম কর ব্যবস্থা বিলুপ্তিসহ সব ধরনের অসংগতি দূর করার সুপারিশ করেছে। বর্তমানে আমদানি শুল্ক থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব জিডিপির প্রায় আড়াই শতাংশ, যা এক শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে টাস্কফোর্সের সদস্যরা জানান, দীর্ঘমেয়াদি কর পরিপালন সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবেদনে ৫৫টি সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে এনবিআরের মোট রাজস্বের ৩০ শতাংশ আসে প্রত্যক্ষ কর থেকে এবং বাকি ৭০ শতাংশ আসে পরোক্ষ কর (প্রধানত আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট) থেকে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমদানি শুল্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে প্রত্যক্ষ করের অবদান ৫০ শতাংশে উন্নীত করার সুপারিশ করা হয়েছে।টাস্কফোর্সের সদস্য স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, প্রতিবেদনে আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর কর আধুনিকীকরণের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে সম্পত্তি হস্তান্তরের (জমি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি) ওপর বিদ্যমান কর অর্ধেক করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি উপহারের ওপর এক শতাংশ কর আরোপ এবং উত্তরাধিকার কর প্রবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির কোনো খেলাপি ঋণ নেই এবং যাদের অন্তত ৩৫ শতাংশ ইক্যুইটি রয়েছে, তাদের জন্য করপোরেট করের হার ২০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।