TAXNEWSBD
‘হাফ-বেকড’ সংস্কারে এনবিআরের সমস্যাই বেড়েছে: অর্থমন্ত্রী আমির খসরু
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬ ১৯:৪৯ অপরাহ্ন
TAXNEWSBD

TAXNEWSBD

রাজধানীর বনানীতে অনুষ্ঠিত ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা ২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নীতি ও বাস্তবায়ন বিভাগ আলাদা করার উদ্যোগ ছিল অসম্পূর্ণ ও অকার্যকর। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল একটি “হাফ-বেকড” সংস্কার, যা প্রকৃত সংস্কারের বদলে নতুন জটিলতা সৃষ্টি করেছে।

সোমবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে দৈনিক বণিক বার্তা আয়োজিত ‘সোনার বাংলা নীতি আলোচনা ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন পত্রিকাটির সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সময়ের প্রয়োজনে এনবিআরকে দুই ভাগ করা দরকার হলেও করনীতি নির্ধারণের দায়িত্ব শুধু আমলাদের হাতে রাখা উচিত নয়। তাঁর মতে, শুধুমাত্র আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর মাধ্যমে বড় ধরনের সংস্কার সম্ভব নয়। তিনি জানান, এনবিআর সংস্কারসংক্রান্ত বিল বর্তমানে সংসদে আটকে রয়েছে এবং এটি আরও কার্যকর করতে একটি কমিটি কাজ করছে।

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রকল্পের কার্যকারিতা যাচাই করা হচ্ছে। দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত স্বার্থে নেওয়া প্রকল্পগুলো বাদ দিয়ে জনকল্যাণমূলক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রকল্প চালু রাখা হবে। নতুন প্রকল্প অনুমোদনে বিনিয়োগের রিটার্ন, কর্মসংস্থান ও পরিবেশগত বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

রেমিট্যান্স ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রবাসী আয় ৪০ থেকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। একই সঙ্গে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে সরাসরি যোগাযোগনির্ভর সেবাব্যবস্থার কারণেই ঘুষের প্রবণতা তৈরি হয়। ব্যবসা সহজীকরণের পথে যাঁরা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের অপ্রয়োজনীয় করে দেওয়া হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক–এর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। আইএমএফের সব শর্ত বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য উপযোগী নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পুঁজিবাজার সংস্কারের ইঙ্গিত দিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন–এ বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হবে এবং সেখানে রাজনৈতিক নিয়োগ দেওয়া হবে না।

জ্বালানি খাত নিয়ে তিনি বলেন, আগের সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের চাপ বর্তমান সরকার বহন করছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলায় নেপাল থেকে ভারতের গ্রিড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি রাশিয়ার সহায়তায় নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করছে সরকার।

রপ্তানি খাত নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের মতো ইলেকট্রনিকস, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং ও গোল্ড জুয়েলারি খাতকেও বন্ড ও শুল্কসুবিধা দেওয়া হবে। ডায়মন্ড কাটিং ও গোল্ড জুয়েলারি রপ্তানির জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগও রাখা হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ ও শিল্পোদ্যোক্তারা অর্থনীতি, করব্যবস্থা, জ্বালানি সংকট ও ব্যবসা সহজীকরণ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। বক্তব্য দেন আহসান খান চৌধুরী, দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, মোস্তফা কামাল, শরিফ জহিরসহ আরও অনেকে।