
আয়কর আইনে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকার ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম কর কেটে রাখার বিধান রয়েছে। এবার ২০২৬-২৭ নতুন অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বলা হয়েছে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় যে উৎসে কর কেটে রাখা হয়, তা চূড়ান্ত কর দায় নয়। বছর শেষে তা সমন্বয় করা যাবে। যদি ওই করদাতার প্রযোজ্য করের চেয়ে বেশি কর কেটে রাখা হয়, তাহলে তা ফেরত বা রিফান্ড পাওয়া যাবে।পাশাপাশি নতুন করবর্ষ ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করলে করের ওপর ৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে, কর ফেরতের পুরো প্রক্রিয়া হবে অনলাইনে এবং আবেদন যাচাই শেষে ১২০ দিনের মধ্যে করদাতার ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে।অর্থ আইন অনুযায়ী, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎসে কাটা করকে আর চূড়ান্ত কর (ফাইনাল ট্যাক্স) হিসেবে গণ্য করা হবে না। এটি এখন থেকে অগ্রিম কর (অ্যাডভান্স ট্যাক্স) হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলে সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া মুনাফা করদাতার মোট করযোগ্য আয়ের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী চূড়ান্ত কর নির্ধারণ করা হবে।
এ পরিবর্তনের ফলে যাদের মোট আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকবে বা যাদের কার্যকর করহার ১০ শতাংশের কম হবে, তারা উৎসে কাটা অতিরিক্ত কর সমন্বয় কিংবা ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, যাদের করহার ১০ শতাংশের বেশি, তাদের ক্ষেত্রে উৎসে কাটা কর অগ্রিম হিসেবে সমন্বয় হবে এবং বাকি কর রিটার্নের সময় পরিশোধ করতে হবে।জানতে চাইলে কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, সঞ্চয়পত্রের করহার বাড়ার বিষয়টি সঠিক নয়। আইন অনুযায়ী বর্তমানে উৎসে কর ১০ শতাংশই রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ১০ শতাংশ থাকবে। পরিবর্তন এসেছে কর আদায়ের পদ্ধতিতে। আগে এটি চূড়ান্ত কর ছিল, এখন অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে অনেক করদাতার প্রকৃত করের বোঝা কমবে।তিনি বলেন, এ পরিবর্তনের ফলে স্বল্প আয়ের করদাতারা সুবিধা পাবেন। যাদের মোট আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকবে অথবা যাদের কার্যকর করহার ১০ শতাংশের কম, তারা উৎসে কেটে রাখা কর সমন্বয় বা ফেরত পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এনবিআরের প্রথম সচিব (কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়ন) জাফর ইমাম বলেন, কর ফেরতের পুরো ব্যবস্থাটিই ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় করা হচ্ছে।তার ভাষ্য, অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সময় সিস্টেম যদি দেখে কোনো করদাতার রিফান্ড প্রাপ্য হয়েছে, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ফর্ম চলে আসবে। সেখানে করদাতা তার ব্যাংক হিসাবসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে জমা দেবেন। এরপর সিস্টেম তথ্য যাচাই করবে এবং আবেদন জমা দেওয়ার দিন থেকে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি হবে ফেসলেস ও হিউম্যান ইন্টারঅ্যাকশনের বাইরে।রিফান্ড ব্যবস্থায় এটি একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে করদাতার অ্যাকাউন্টে টাকা ফেরত যাওয়ার বিষয়টি কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও আস্থা বাড়াবে& বলছিলেন কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া।
জাফর ইমাম উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন করদাতার ৫০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। তিনি বছরে ৫ লাখ টাকা মুনাফা পেলেন। এর ওপর উৎসে ১০ শতাংশ হিসেবে ২৫ হাজার টাকা কর কাটা হয়েছে।< আগে উৎসে কাটা কর চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল না। এখন এটি অগ্রিম কর হওয়ায় করদাতার প্রকৃত করের পরিমাণ কমে আসবে বলছিলেন এনবিআরের এ কর্মকর্তা।
অর্থবিল ২০২৬-এ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য সারাবছর রিটার্ন দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন জমা দিলে করছাড়ের প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে।আয়কর আইন অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নির্ধারিত করের ওপর ৫ শতাংশ ছাড় মিলবে। তবে এ ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার টাকা। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা দিলে কোনো ছাড় বা অতিরিক্ত জরিমানা থাকবে না।