
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে গতকাল এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সরকারি ক্রয় আইন ও সরকারি ক্রয়বিধির সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে এ প্রস্তাব উপস্থাপন করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সাতটি প্রতিষ্ঠান থেকে দুটি করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব এলএনজি কার্গো কেনা হবে। মূলত দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে সিসিইএর নীতিগত অনুমোদন লাগে।
এর আগে ৬ আগস্ট দরপত্র ছাড়া আরো আট কার্গো এলএনজি এবং দেশের আপৎকালীন এলপিজি চাহিদা পূরণ ও বাজারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পাঁচ হাজার টন এলপিজি আমদানিরও সিদ্ধান্ত হয়।
এদিন সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকও হয়। সেখানে আন্তর্জাতিক দরপত্র সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় তিন কার্গো এলএনজি আমদানির প্রস্তাব করা হলে এক কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে এই এলএনজি কেনা হবে।
সিসিইএর বৈঠকে আরো তিনটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফার্টিগ্লোব ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ইউরিয়া সার আমদানি-সংক্রান্ত চুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় ব্যবস্থার আওতায় এ চুক্তি সম্পাদিত হবে।
এছাড়া জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বাস্তবায়নাধীন একটি প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জন্য ৪০টি ড্রাইভিং সিমুলেটর কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আওতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব সিমুলেটর সংগ্রহ করা হবে।
অন্যদিকে ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা প্রকল্পের জন্যও একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এর আওতায় প্রকল্পটির সাধারণ ঠিকাদার জাপানের এমএইচআইয়ের কাছ থেকে কারিগরি সহায়তা নেয়া হবে, যাতে কারখানাটির দৈনন্দিন উৎপাদন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা পাওয়া যায়। এজন্য টেকনিক্যাল সার্ভিস (দ্বিতীয় ধাপ) চুক্তির আওতায় একক উৎস নির্বাচন পদ্ধতিতে পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) নিয়ন্ত্রণাধীন দুটি বন্ধ বস্ত্র কারখানা পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি অংশীদার নির্বাচনের জন্য চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদানে নীতিগত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ পরবর্তী সময়ে পুনরায় উপস্থাপন করতে বলা হয়। বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন বস্ত্র কারখানা দুটি হচ্ছে নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিল ও মাগুরা টেক্সটাইল মিল।
অর্থ মন্ত্রণালয় আরো জানিয়েছে, কমিটির সিদ্ধান্তগুলো সার ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প প্রকল্পগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে।