এখন আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় চলছে। এ বছর থেকে সারা বছরই রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে আয়করে ছাড় পাওয়া যাবে। একজন করদাতার সাত ধরনের আয় থাকতে পারে এবং এসব খাত থেকে আয় হলে তা রিটার্নে উল্লেখ করতে হয়। তবে রিটার্নে ইচ্ছেমতো আয়ের পরিমাণ উল্লেখ করা যাবে না; নির্দিষ্ট কাগজপত্রের মাধ্যমে আয় প্রমাণ করতে হবে। এসব প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে অনলাইনে রিটার্ন জমার সময় আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব করা সম্ভব হবে না।
এবার জেনে নেওয়া যাক, বিভিন্ন ধরনের আয়ের ক্ষেত্রে কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন হবে।
১. চাকরি থেকে আয়
কোনো করদাতা যদি চাকরিজীবী হন, তাহলে নিচের কাগজপত্র তৈরি রাখুন। কিছু কাগজপত্র লাগবেই, কিছু কাগজপত্র তৈরি রাখা ভালো। এসব কাগজপত্রের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো
* বেতনের বিবরণী।
* পে স্লিপ।
* উৎসে কর কেটে রাখার সনদ।
২. কৃষি আয়
কৃষি আয় প্রমাণ করতে যেসব কাগজপত্র লাগে, এর মধ্যে অন্যতম হলো
* জমির দলিল বা লিজ দলিল।
* কৃষিপণ্য বিক্রয়ের চালান।
* কৃষি ব্যয়ের প্রমাণ।
* ব্যাংক হিসাবের বিবরণী (যদি প্রযোজ্য হয়)।
৩. ব্যবসা বা পেশা থেকে আয়
এই খাত থেকে আয় হলে আপনাকে কিছু দলিল সংরক্ষণ করতে হবে। যেমন
* আয় ব্যয়ের হিসাব।
* ক্যাশবুক।
* লেজার।
* ব্যাংক হিসাবের বিবরণী।
* ট্রেড লাইসেন্স।
* ব্যবসার নিবন্ধন (যদি প্রযোজ্য হয়)।
* কেনাবেচার আলাদা হিসাব।
* ইনভয়েস ও ভাউচার।
* স্টক রেজিস্টার।
৪. বিনিয়োগ থেকে আয়
করদাতারা অনেক সময় এফডিআর, সঞ্চয়পত্রসহ নানা খাতে বিনিয়োগ করেন। এসব আয় রিটার্নে দেখানোর সময় যেসব কাগজ প্রস্তুত রাখতে হবে—
* ব্যাংকের মুনাফার সনদ।
* এফডিআর সনদ।
* সঞ্চয়পত্রের তথ্য।
* লভ্যাংশের বিবরণী।
* শেয়ার বিও হিসাবের বিবরণী।
* মিউচুয়াল ফান্ডের বিবরণী।
৫. বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া থেকে আয়
বাড়ি বা সম্পত্তি ভাড়া থেকে আয়ের জন্য যেসব দলিল লাগবে, সেগুলো হলো—
* ভাড়া চুক্তিপত্র।
* ভাড়া গ্রহণের রসিদ।
* ব্যাংক লেনদেনের প্রমাণ।
* দলিল বা মালিকানার কাগজ।
* পৌরকর বা হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের রসিদ।
* মেরামত ব্যয়ের প্রমাণ (যদি দাবি করা হয়)।
৬. মূলধনি মুনাফা
আপনি যদি জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ারসহ অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করেন, তাহলে লাগবে
* ক্রয় দলিল।
* বিক্রয় দলিল।
* নিবন্ধনের দলিল।
* ব্যাংক লেনদেনের তথ্য।
* উন্নয়ন ব্যয়ের প্রমাণ (যদি থাকে)।
৭. অন্যান্য উৎস থেকে আয়
অন্যান্য উৎস থেকে আয়ের মধ্যে যেসব খাত আছে, সেগুলোর বিপরীতে প্রয়োজনীয় সনদ বা দলিল প্রস্তুত রাখতে হবে। এগুলোর মধ্যে আছে
* কমিশন।
* পরামর্শ ফি।
* লয়্যালটি।
* সম্মানী।
* পুরস্কারের অর্থ।
সব করদাতার যা প্রয়োজন
সব করদাতার জন্য সাধারণভাবে প্রয়োজন যেসব দলিল, তা হলো
১. ব্যাংক হিসাবের তথ্য।
২. মুঠোফোন নম্বর ও ই-মেইল।
৩. প্রভিডেন্ট ফান্ডের তথ্য।
৪. দানের রসিদ।
৫. জীবনবিমার প্রিমিয়ামের রসিদ।
দলিল কেন প্রয়োজন
শুধু রিটার্ন জমা দিলেই করদাতার দায়িত্ব শেষ নয়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র নির্ধারিত সময় পর্যন্ত সংরক্ষণ করা উচিত। কারণ, ভবিষ্যতে কর কর্মকর্তাদের নিরীক্ষায় পড়লে যেন সহজে উপস্থাপন করা যায়। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে রিটার্ন দাখিল করলে ঝুঁকি আছে।
