বড় করদাতারাই যখন ভরসা বিনিয়োগ করে যেভাবে কর কমাবেনরিটার্ন দেওয়ার কৌশলএক পাতার আয়কর রিটার্ন ফর্ম চালু করেছে এনবিআরহোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে ছাড়ের সময় বাড়ল
No icon

কাল অর্থ বিল, পরদিন বাজেট পাস

নানা সতর্কতা সত্ত্বেও একের পর এক সংসদ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে যাতে কেউ করোনা আক্রান্ত না হন, সেজন্য বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে অধিবেশনে যোগ দিবেন, এমন সংসদ সদস্যদের করোনাভাইরাসের নমুনা টেস্ট করানো হয়েছে। বাজেট পাস হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদেরকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দেশের ইতিহাসে সংক্ষিপ্ততম বাজেট অধিবেশন মাত্র ৮ কার্যদিবসে শেষ হচ্ছে। গত ১০ জুন শুরু হওয়া অধিবেশন এ পর্যন্ত ৫ কার্যদিবস বসেছে। আগামীকাল সোমবার অর্থ বিল পাস ও পরদিন ৩০ জুন বাজেট পাস হবে। এরপর একদিন সমাপনী হবে। অর্থাৎ অতীতে বাজেট অধিবেশন দীর্ঘ হলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে এটি হচ্ছে সংক্ষিপ্ততম অধিবেশন। যে অধিবেশনে মাত্র একদিন প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংক্ষিপ্ত এই অধিবেশনে অন্ততঃ ১৫ থেকে ২০ ঘণ্টা আলোচনার পরিকল্পনা থাকলেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওযায় তা কমিয়ে আনা হয়। অতীতে বাজেটের উপর ৬০ থেকে ৬৫ ঘণ্টা আলোচনার রেকর্ড রয়েছে।

এদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণ দুরের কথা, অনেকে অধিবেশনে যোগ দিতে পারছেন না। আবার নমুনা টেস্টে উত্তীর্ণ (করোনা নেগেটিভ) এমপিদের গৃহবন্দি থাকতে হচ্ছে। এজন্য মন্ত্রী-এমপিদের অনেকে অধিবেশনে যোগ দেওয়ার জন্য হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন বলে সরকারি দলের একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন।

তারা জানান, করোনা মহামারি পরিস্থিতির কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। অধিবেশনে স্বল্প সংখ্যক এমপির উপস্থিতি ও আলোচনায় এবার বাজেট পাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হলেও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাজেট হবে বলে জানিয়েছেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, অধিবেশন কক্ষসহ সংসদ ভবনে করোনা সংক্রমণ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অধিবেশন আরো সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ ও ৩০ জুন দুই কার্যদিবস চলবে। এরপর অধিবেশন মূলতবি করে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে কোন একদিন সমাপনী করা হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, করোনা পরিস্থিতির কারণে অধিবেশন সংপ্তি করার পাশাপাশি উপস্থিতিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত থাকছেন। বিদ্যমান আসন বিন্যাস পরিবর্তন করে তিন থেকে চার ফুট দূরত্ব বজায় রেখে আপৎকালীন নতুন আসন বিন্যাস করা হয়েছে। অধিবেশনে কারা যোগ দিবেন, তার তালিকা করে প্রধান হুইপের দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রবীণ ও অসুস্থ সংসদ সদস্যদের সংসদ অধিবেশনে যোগ না দেওয়া জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির কারণে সংসদ অধিবেশনকে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা ছিলো শুরু থেকেই। অধিবেশন শুরুর আগে সংসদে দায়িত্ব পালন করবেন এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা টেস্ট করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। টেস্টে করোনা নেগেটিভ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইসোলশনে রাখা হয়। কিন্তু তারপরও মন্ত্রী-এমপি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের করোনা আক্রান্তের খবর এবং সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর সংসদ সদস্যদের নমুনা পরীার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অধিবেশনে যোগ দিবেন এমন ১৭০ জন সংসদ সদস্যকে টেস্ট করাতে বলা হয়। তাদেরকে ভবনের মেডিকেল সেন্টারে নমুনা পরীার জন্য সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। তবে অনেকেই ঢাকার বাইরে থাকায় তারা নিজ নিজ এলাকায় নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন বলে জানাগেছে।

সংসদ ভবন মেডিকেল সেন্টারের নমুনা বুথ থেকে পাওয়া তথ্যে জানাগেছে, গত ২০ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত সেখানে ৯৮ জন সংসদ সদস্য নমুনা দিয়েছেন। সেখানে সর্বশেষ সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফেরদৌসি ইসলাম জেসির করোনা পজেটিভ এসেছে। তিনি বর্তমানে মানিক মিয়া এভিনিউস্থ ন্যাম ভবনের বাসায় চিকিৎসাধীন আছেন। এরআগে করোনা পজেটিভ ফলাফল পেয়েছেন রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি এনামুল হক। তিনি বর্তমানে রাজধানীর আদাবরে নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এ পর্যন্ত ১৮জন মন্ত্রী-এমপি করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সংসদ মেডিকেলে নমুনা পরীক্ষায় চলতি মাসে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা পজেটিভ এসেছে। আর সংসদ ভবনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ ও আনসার বাহিনীর প্রায় দুশো সদস্য করোনা আক্রান্ত হন। যাদের বেশীর ভাগই ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে আছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক প্রধান হুইপ উপাধ্য মো. আবদুস শহীদ, সাবেক হুইপ শহীদুজ্জামান সরকার, রেল মন্ত্রণালয় বিষয়ক কমিটির সভাপতি এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী এবং সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়, মোসলেম উদ্দিন, ফরিদুল হক খান দুলাল, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল, মোকাব্বির খান ও মাশরাফি বিন মোর্ত্তুজা।

সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী জানান, করোনা সংক্রমণ নিয়ে সংসদ সদস্যদের মধ্যে আতংক ও সতর্কতা দুটোই বেড়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ এমপি করোনা টেস্ট করিয়েছেন। করোনা নেগেটিভ নিশ্চিত হয়েই তারা অধিবেশনে যোগ দিবেন। অধিবেশন কক্ষেও সকলকে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।