রাজস্ব আদায়ে অভিযান শুরু ঢাকা উত্তরেভ্যাট ফাঁকিতে মামলা, ভুয়া মূসক চালান বই উদ্ধারকর ছাড় পাবেন শুধু নতুনরাইটিআইএন নেই ৯৮ হাজার কোম্পানির‘ভ্যাটের অনিয়ম বন্ধ করতেই ইএফডি চালু’
No icon

বড় করপোরেটদের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না

ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না দেশের বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর। চলতি ২০১৯-২০ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত উৎপাদন ও সেবা খাতের বড় করপোরেটগুলোর প্রায় সবারই রাজস্ব আয় কমেছে। এর প্রভাবে কমেছে প্রতিষ্ঠানগুলোর কর-পরবর্তী মুনাফাও। বেসরকারি খাতের শ্লথগতির পাশাপাশি নানা কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা ভালো হয়নি বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ব্যবসা পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে অন্যতম শীর্ষ করপোরেটগুলোর তালিকাভুক্ত কোম্পানির ২০১৯-২০ হিসাব বছরের প্রথমার্ধের আর্থিক ফলাফল পর্যালোচনা করেছে বণিক বার্তা। কোম্পানিগুলো হচ্ছে প্রিমিয়ার সিমেন্ট, শাইনপুকুর সিরামিকস, আফতাব অটোমোবাইলস, বিবিএস লিমিটেড, বিবিএস কেবলস, বিএসআরএম লিমিটেড, বিএসআরএম স্টিল, ইফাদ অটোজ, কেডিএস অ্যাকসেসরিজ, আরএসআরএম, কেপিসিএল, ইউনাইটেড পাওয়ার, বেক্সিমকো লিমিটেড, এসিআই ফর্মুলেশনস, এপেক্স ফুটওয়্যার, শাশা ডেনিমস, ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস ও বসুন্ধরা পেপার মিলস। রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি কর-পরবর্তী মুনাফাও কমেছে এসব কোম্পানির।

চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে প্রিমিয়ার সিমেন্টের রাজস্ব আয় হয়েছে ৫২৯ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৫৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। আর আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩ শতাংশ কমে ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসা ভালো না হওয়ার বিষয়ে প্রিমিয়ার সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মো. শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সিমেন্ট খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে ব্যবসায়িক দিক দিয়ে বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি কমে যাওয়ার কারণে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে প্রিমিয়ার সিমেন্টের রাজস্ব আয় কমেছে। এ খাতের অন্যান্য কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। বিক্রি কমার পাশাপাশি ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়করের প্রভাবে কর-পরবর্তী মুনাফাও কমেছে। অবশ্য সম্প্রতি অগ্রিম আয়কর ৫ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু আগে অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ের সুযোগ ছিল, যেটি এখন নেই। ফলে ৩ শতাংশ করা হলেও আগের তুলনায় আয়কর বাবদ বেশি অর্থ ব্যয় হবে।

বেক্সিমকো গ্রুপের দুই কোম্পানি শাইনপুকুর সিরামিকস ও বেক্সিমকো লিমিটেড চলতি বছরের প্রথমার্ধে ভালো করতে পারেনি। এর মধ্যে চলতি বছরের প্রথমার্ধে শাইনপুকুর সিরামিকসের রাজস্ব আয় হয়েছে ৬৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৮০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ১৪ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮৪ লাখ টাকায়, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৭২ শতাংশ।

বেক্সিমকো লিমিটেডের রাজস্ব আয় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ৯৩১ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১ হাজার ২০৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় ২৩ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪৮ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বেক্সিমকো গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদ উল্লাহ বলেন, শাইনপুকুর সিরামিকসের ৮০ শতাংশ পণ্যই রফতানি হয়। আর বেক্সিমকো লিমিটেড শতভাগ রফতানিমুখী কোম্পানি। বৈশ্বিক বাজার নিম্নমুখী থাকার কারণে চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে এ দুই কোম্পানির ব্যবসা কমেছে। তাছাড়া স্থানীয় বাজারের শ্লথগতির কারণে ব্যবসায় কিছুটা প্রভাব পড়েছে বলে জানান তিনি।

চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ব্যবসায় ভালো করতে পারেনি বিবিএস গ্রুপের দুই কোম্পানি বিবিএস লিমিটেড ও বিবিএস কেবলস। এর মধ্যে বিবিএসের রাজস্ব আয় হয়েছে ৫৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ৩৭ শতাংশের বেশি। আর আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ২৮ লাখ টাকায়, যদিও আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ১০ শতাংশ।

বিবিএস কেবলস চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ৪৫৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৪৮০ কোটি ৪২ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আর আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ কমে ৮৪ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বিবিএস কেবলসের কোম্পানি সচিব মো. নাজমুল হাসান বলেন, গত বছরের অক্টোবর থেকেই সার্বিকভাবে ব্যবসায় মন্দা চলছে। তার ওপর এ সময়ে আমরা ব্যাংকের কাছ থেকে তেমন কোনো সহায়তা পাইনি। নিজেদের তহবিল থেকেই ব্যবসার পুরো ব্যয় মেটাতে হয়েছে। তাছাড়া সরকারের কাছেও আমাদের বড় অংকের কিছু বিল পাওনা রয়েছে। এসব কিছু মিলিয়েই প্রথমার্ধে আমাদের ব্যবসা ভালো হয়নি। তবে এ নিয়ে আমরা তেমন একটা চিন্তিত নই। কারণ সামনের প্রান্তিকেই বেশকিছু বড় অংকের বিল আমাদের হাতে চলে আসবে। তাছাড়া এ সময়ের মধ্যে আরো কিছু বড় আকারের কার্যাদেশ পাব বলে আশা করছি। এ বছর আমরা ১ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। আশা করছি, আমরা এ লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।

দেশের ইস্পাত খাতের শীর্ষ কোম্পানি বিএসআরএম লিমিটেড ও বিএসআরএম স্টিল চলতি বছরের প্রথমার্ধে ব্যবসায়িকভাবে বড় লোকসানের মধ্যে পড়েছে। এর মধ্যে বিএসআরএম লিমিটেডের রাজস্ব আয় চলতি বছরের প্রথমার্ধে ২ হাজার ২৪৮ কোটি ৪১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ৪১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আর আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৪৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। যদিও আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৭৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৩৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

বিএসআরএম স্টিলের রাজস্ব আয় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ২ হাজার ৩১ কোটি ৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৮৭০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ২৯ দশমিক ২৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৭৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

জানতে চাইলে বিএসআরএম গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) ও কোম্পানি সচিব শেখর রঞ্জন কর বলেন, দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে যে পরিস্থিতি চলছে তার প্রভাব পড়েছে আমাদের ব্যবসায়। আগে আমাদের যে পরিমাণ বিক্রি হতো, চলতি বছরের প্রথমার্ধে তার চেয়ে অনেক কম হয়েছে। ব্যবসা কমে যাওয়ার কারণে আমাদের রাজস্ব আয়ও কমেছে। তাছাড়া এ খাতের কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে বাজার ধরতে অনেকেই পণ্যের দাম কমিয়ে দিয়েছে। ফলে আমাদের পণ্যের দামও কমাতে হয়েছে। যার কারণে আমাদের মুনাফা মার্জিন আগের চেয়ে কম। তার ওপর ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়করকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে ধার্য করার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে মুনাফায়।

বাংলাদেশে ভারতীয় ব্র্যান্ড অশোক লেল্যান্ডের মূল ডিস্ট্রিবিউটর ইফাদ অটোজের ব্যবসাও ভালো যাচ্ছে না। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় হয়েছে ৪৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৭৩৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ৪০ দশমিক ৪৮ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা এর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে ৩৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ইস্পাত খাতের আরেক কোম্পানি আরএসআরএমের রাজস্ব আয় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫০ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমে ১৯৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৭১ শতাংশ।

বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানি কেপিসিএলের রাজস্ব আয় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ২৭৩ কোটি ৩০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ৪৬ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৭৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। যদিও আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা ছিল ৯০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ১৪ শতাংশ।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেপিসিএলের ১১০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে। রাজস্ব আয় কমার প্রভাবে কর-পরবর্তী মুনাফাও কমেছে।

বিদ্যুৎ খাতের আরেক কোম্পানি ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের রাজস্ব আয় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ৫৪৩ কোটি ৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৭৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় ৬ শতাংশ কমেছে। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৪৫৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ২৮ দশমিক ৮১ শতাংশ।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, আগের বছরের প্রথমার্ধে ইউনাইটেড পাওয়ারের ৫৩ মেগাওয়াট সক্ষমতার আশুগঞ্জের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু থাকলেও গত বছরের ২২ জুন মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এ বছরের প্রথমার্ধে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। যদিও কেন্দ্রটির মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করা হয়েছে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাছাড়া গত বছর সাবসিডিয়ারি কোম্পানির শেয়ার অধিগ্রহণের কারণে কোম্পানির বাড়তি মুনাফা হয়েছিল, যেটি এ বছরের প্রথমার্ধে ছিল না। এসব কারণেই চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির রাজস্ব আয় ও মুনাফা দুটোই কমেছে।

ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি এসিআই ফর্মুলেশনসের রাজস্ব আয় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ১৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ২১৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ২৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৪৬ দশমিক ৮২ শতাংশ।

চামড়া খাতের কোম্পানি এপেক্স ফুটওয়্যারের রাজস্ব আয় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ৭৫৮ কোটি ৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৭৯৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ১৪ শতাংশ।

বস্ত্র খাতের কোম্পানি শাশা ডেনিমস চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ৩৮৬ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে। আগের বছরের একই সময়ে তাদের রাজস্ব আয় হয়েছিল ৪৩৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৬ কোটি ২০ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৪০ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

শাশা ডেনিমসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট শামস মাহমুদ বলেন, আমাদের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ গত বছরের জুলাইয়ে শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এ খাত থেকে এবার আমাদের কোনো আয় হয়নি। আমরা কেন্দ্রটির মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। মূলত এ কারণেই চলতি বছরের প্রথমার্ধে আমাদের রাজস্ব আয় কমেছে। তবে এককভাবে শাশা ডেনিমসের পারফরম্যান্স আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। আমরা গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়িয়েছি। ফলে ভবিষ্যতে শাশা ডেনিমসের পারফরম্যান্স আরো ভালো হবে।

ভ্রমণ ও অবকাশ খাতের কোম্পানি ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসের চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ১১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ১১৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় কমেছে ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ২৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ১৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ।

ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসের কোম্পানি সচিব মো. শরীফ হাসান জানান, চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোম্পানির ব্যবসা বেড়েছে। কিন্তু প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যবসা কমে যাওয়ার প্রভাবে সার্বিকভাবে প্রথমার্ধের আর্থিক ফলাফলে রাজস্ব আয় কিছুটা কমেছে। মুনাফা কমার কারণ হিসেবে তিনি জানান, বর্তমানে কোম্পানিটির কয়েকটি প্রকল্পের কাজ চলছে। সেগুলোতে নিজেদের তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়েছে। আগে এ অর্থ ব্যাংকে এফডিআর হিসেবে রাখা ছিল এবং এর বিপরীতে সুদ আয়ও এসেছে। অন্যদিকে প্রকল্পে নিজস্ব অর্থের পাশাপাশি ব্যাংকঋণের মাধ্যমেও বিনিয়োগ করতে হয়েছে। ফলে সুদ বাবদ ব্যয়ও বেড়ে গেছে। তাছাড়া নতুন হোটেলের জন্য এরই মধ্যে বেশকিছু লোকবল নিয়োগ করতে হয়েছে এবং তাদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় বেড়েছে। তার ওপর মন্দার কারণে এ সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিপরীতে লাভ তো হয়ইনি, উল্টো লোকসান গুনতে হয়েছে। এসব কারণেই চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানির মুনাফা কমেছে।

কাগজ ও প্রকাশনা খাতের কোম্পানি বসুন্ধরা পেপার মিলসের রাজস্ব আয় চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে ৪৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৭৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় কমেছে ১৮ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে ১৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ২২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির মুনাফা কমেছে ৩৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

জানতে চাইলে বসুন্ধরা পেপারের কোম্পানি সচিব মো. নাসিমুল হাই বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বেড়েই চলেছে। তার ওপর ডিজেলের দাম বাড়ার কারণে পরিবহন খাতেও খরচ বেড়েছে। বাজারে প্রতিযোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেকে কম দামে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করছে। এ কারণে আমাদেরও বাধ্য হয়ে দাম কমাতে হয়েছে। তাছাড়া বাজারে আমাদের পণ্য নকল করার কারণেও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। মূলত এসব কারণেই রাজস্ব আয় ও মুনাফা কমেছে।