জাতীয় আয়কর দিবস আজআয়কর নথিতে অপ্রদর্শিত সম্পত্তি থাকলে যা করবেন এবার সময় বাড়ছে না আয়কর বিবরণী জমার সরকারি কর্মকর্তারা যেসব ভাতায় করমুক্ত থাকেগুগল-ফেসবুকের ভ্যাটের তথ্য পাঠাতে হবে কাস্টমসে
No icon

ই-কমার্স নিয়ে প্রতারণা জেনেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি

ইভ্যালির খারাপ ব্যবসার বিষয়টি এক বছর আগেই তদন্তে উঠে এসেছিল, কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ই কমার্স খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান মূল্যছাড়ের লোভ দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল। সে বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্তে আগেই উঠে এসেছিল। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকেও সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্বশীল ওই সব সংস্থার কোনোটিই এ প্রতারণা বন্ধের ব্যবস্থা নেয়নি। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ই ক্যাবের (ই কমার্স অ্যাসোসিয়শেন অব বাংলাদেশ) উদ্যোগে ই কমার্স পলিসি টক শিরোনামে এ আলোচনা সভা হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, তাঁরা এক দেড় বছর আগেই বিভিন্ন ই কমার্স প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নিয়ে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন যে কিছু ভুল হচ্ছে, বড় ধরনের সমস্যা হবে। কিন্তু ওই সব ই কমার্স প্রতিষ্ঠানের হাতে যথেষ্ট টাকা ছিল, যা দিয়ে তারা অনেকের ওপর প্রভাব খাটাতে পারে।
এক বছর আগে অভ্যন্তরীণ তদন্তের মাধ্যমে জানা যায় যে ইভ্যালি খারাপ ব্যবসা করছে। তখন আমরা ছয়টা সংস্থাকে চিঠি দিই। এর মধ্যে যদি একটা সংস্থাও কাজ করত, তাহলে এ ঘটনা ঘটত না। স্ববিরোধী কথা হয়ে যায়। একটা সংস্থাকে যদি সক্রিয় করতে পারেন, ই কমার্সের কিছু হবে না। শুধু ভোক্তা অধিকারকে সক্রিয় করেন, তাহলেই আর কোনো সমস্যা হবে না। তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ বানালেই হবে না, তাদের কাজ করতে হবে।

আলোচনায় প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, যে ঘটনাটা ঘটেছে, তা অনেক আগে থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিল। কমিশনও ইঙ্গিত দিয়েছিল।

আলোচনায় এসক্রো পদ্ধতিতে ই কমার্স উদ্যোক্তাদের দ্রুত টাকা পাওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগ) রাফেজা আক্তার কান্তা বলেন, ই কমার্স খাতের সব পক্ষকে অটোমেটেড হতে হবে। নয়তো এসক্রো করেও লাভ হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসক্রোর এ অবস্থা মেনে নিতে হবে। সামনে পরিস্থিতির উন্নতির জন্য চেষ্টা করা হবে।আলোচনায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়েছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ শফিকুজ্জামান। ই-কমার্স খাতের বর্তমান পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার কথা বলেন তিনি।

ডাক বিভাগের মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন ই কমার্স খাত নিয়ে তাঁর বিভাগের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন। ই কমার্স খাত সংশ্লিষ্ট সবাইকে দ্রুত শনাক্ত করার জন্য একটি সমন্বিত পদ্ধতি থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি।

ই কমার্স খাতকে এগিয়ে নিতে খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার পদ্ধতি সহজ করা, শ্রম আইনে ই কমার্স খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা, কুরিয়ার সেবা আরও উন্নত করা, নগর পরিকল্পনা প্রণয়নে ই কমার্সকে বিবেচনায় নেওয়া এবং এ খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

ই ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার বলেন, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জন্য পুরো খাতের বিরুদ্ধে যেন অভিযোগ তোলা না হয়। এ খাত এখনো নতুন। সবাই শিখছে। ই ক্যাব প্রয়োজন অনুযায়ী নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। দেশীয় উদ্যাক্তাদের রক্ষা করার জন্য নিজেদের এগিয়ে আসতে হবে। এ ছাড়া এসক্রো পদ্ধতিকে ডিজিটালাইজড করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানান তিনি।

ডেটাসেন্সের চিফ ইমাজিনেটর অনন্য রায়হান বলেন, ই কমার্সকে রক্ষা করতে গিয়ে যেন এমন কোনো কিছু করা না হয়, যেখানে ব্যবসাই মারা যাবে। তবে এই খাতেরও জবাবদিহি থাকতে হবে। যে নিয়মনীতি হবে, তা যেন সবার পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে হয়।

ই কমার্স খাতে ভ্যাট কমিয়ে ১৫ থেকে ৫ শতাংশ করার দাবি জানান আজকেরডিলডটকমের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর। তিনি আরও বলেন, দেশি ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য ভিন্ন ভ্যাট ট্যাক্স পদ্ধতি চালু করতে হবে।