নতুন রপ্তানি নীতির খসড়া অনুমোদনপ্রণোদনার অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দুই কোটি টাকা খরচ করে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু : এনবিআরচলতি অর্থবছরে কালোটাকা সাদা করায় তেমন সাড়া মিলছে না ৬৩% টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেননি এ
No icon

চলতি অর্থবছরে কালোটাকা সাদা করায় তেমন সাড়া মিলছে না

চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে  করহার বৃদ্ধি ও জরিমানা আরোপ করায় এবার কালোটাকার মালিকেরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) মাত্র ৬৯২ জন কালোটাকার মালিক নগদ টাকার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ও জমি-ফ্ল্যাট কিনে টাকা সাদা করেছেন। গত পাঁচ মাসে জমি ও ফ্ল্যাটে বিনিয়োগ দেখিয়ে সবচেয়ে বেশি কালোটাকা সাদা করা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে সব মিলিয়ে ৭ হাজার ৫৫ জন করদাতা কালোটাকা সাদা করার সুযোগ নিয়েছিলেন।

গত অর্থবছর ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ ছিল। বিভিন্ন মহলের সমালোচনার কারণে চলতি অর্থবছর তা বাতিল করা হয়। এবার করহার বাড়ানোর পাশাপাশি 
জরিমানাও আরোপ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছর ২৫ শতাংশ কর এবং ওই করের ওপর ৫ শতাংশ হারে জরিমানা দিয়ে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হয়েছে। তাতে সব মিলিয়ে করভার পড়ে ২৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। 

শেয়ারবাজার, নগদ টাকা, ব্যাংকে রাখা টাকা, সঞ্চয়পত্র, জমি-ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ আছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, কালোটাকা সাদা করা বাবদ গত পাঁচ মাসে মাত্র ২৬ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীদের সংগঠন ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, ‘আমরা সব সময় কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাড়তি করহার ও জরিমানার বিধান রাখার প্রস্তাব করেছি। এ অর্থবছরে সেটি করা হয়েছে। ফলে কালোটাকা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আগ্রহ কিছুটা কম দেখা যাচ্ছে।’ আবুল কাসেম খান মনে করেন, করহার বেশি হলে একসময় কালোটাকার মালিকেরা আগ্রহী হবেন না। পাশাপাশি কালোটাকার মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে হবে। 
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে কালোটাকায় ফ্ল্যাট-জমি কিনেছেন সাড়ে পাঁচ শ করদাতা গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৫৫৮ জন করদাতা ফ্ল্যাট ও জমিতে বিনিয়োগ দেখিয়ে কালোটাকা সাদা করেছেন। গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার করদাতা জমি-ফ্ল্যাটে কালোটাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছিলেন। এলাকাভেদে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিলেই ফ্ল্যাট ও জমি কেনার টাকার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করবে না এনবিআর। চলতি অর্থবছরের উল্লেখিত ৫ মাসে ৪৬০ জন করদাতা এনবিআরকে জানিয়েছেন, তাঁরা কালোটাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন। আর ৯৮ জন করদাতা জানিয়েছেন, তাঁরা জমিতে কালোটাকা বিনিয়োগ করেছেন।

গত জুলাই থেকে নভেম্বর সময়কালে ১২৩ জন করদাতা নগদ টাকা কিংবা সঞ্চয়পত্র, এফডিআরে বিনিয়োগ করে কালোটাকা সাদা করেছেন। আর গত অর্থবছরের একই সময়ে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৬৮৩ জন নগদ টাকা, সঞ্চয়পত্র ও এফডিআরে বিনিয়োগ করে কালোটাকা সাদা করেছিলেন।

জানতে চাইলে এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, করহার বৃদ্ধি ও জরিমানা আরোপের কারণে এবার করদাতাদের মধ্যে কালোটাকা সাদা করার তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। তাই এই সুযোগ একসময় বন্ধ করে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে এনবিআর।
গত ২০২০-২১ অর্থবছরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৯ করদাতা কালোটাকা সাদা করেছিলেন। তাতে ওই বছর ২০ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছিল।