করপোরেট কর কমছে বাড়ছে সম্পদ করসংবাদপত্রের করপোরেট করহার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব সম্পাদকদেরআরজেএসসি ঘরে বসেই কোম্পানি নিবন্ধনের সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা খারিজ হয়নি : বাংলাদেশ ব্যাংকরাশিয়ার ঋণের পরিমাণ ২৬ হাজার ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার প্রায়
No icon

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদহার নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক

ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানেরও ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার বেঁধে দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যাংকের সর্বোচ্চ সুদ ৯ শতাংশ হলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তা হবে আরও ৩ শতাংশ বেশি, অর্থাৎ ১২ শতাংশ। কারণ, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ দেয়। পাশাপাশি আমানতের সর্বনিম্ন সুদহার বেঁধে দেওয়া হবে। আমানত ও ঋণের সুদহারের ব্যবধান হবে ৪ শতাংশ। সে অনুযায়ী আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখা আমানতের সুদ হবে ৮ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গত রোববার এই বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, পরিচালনা পর্ষদ সুদহার বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার বিবেচনা করে সুদের হার নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করবে। শিগগিরই তা করা হবে।
২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ব্যাংকের সব ধরনের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে নতুন ও পুরোনো সব ধরনের ঋণের সুদের হার হয় ৯ শতাংশ। আর গত বছরের আগস্টে মেয়াদি আমানতের সুদহার গড় মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম না হওয়ার শর্ত আরোপ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে আমানতের সর্বনিম্ন সুদহার হয় প্রায় ৬ শতাংশ। তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সুদহার বেঁধে দেওয়া নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তাঁরা সুদের হার বাজারব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তা করা হয়নি, বরং এখন উল্টো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদহারও বেঁধে দিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণের সুদহার কমানোর জন্য আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক নানা উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঋণের সুদ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আদায় করে বলে শোনা যায়। দেশে এখন ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ১১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুদের হার ছিল ১২ শতাংশের বেশি। ফলে নতুন সুদহার কার্যকর করতে হলে তাদের সুদ কমাতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে ফিনিক্স ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, বাংলাদেশ ফাইন্যান্স, ন্যাশনাল ফাইন্যান্স, হজ ফাইন্যান্স ও সিভিসি ফাইন্যান্স।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বহুল আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পিকে) হালদারের জালিয়াতির কারণে আর্থিক খাতের চারটি প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে আরও ছয়টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে তারা বেশি সুদে টাকা ধার করছে, সেই টাকা আবার বেশি সুদে ঋণ দিচ্ছে। পাশাপাশি কিছু ভালো প্রতিষ্ঠানও তাদের বিভিন্ন ঋণের বিপরীতে বেশি সুদ নিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তা ৩০ শতাংশও ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই সুদহার বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) সংগঠন বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিএলএফসিএ) চেয়ারম্যান ও আইপিডিসি ফাইন্যান্সের এমডি মমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা নিজেরাও সুদহার নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কারণে তা কার্যকর করা যায়নি। ভালো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ঋণের সুদ ১০ শতাংশের কম বা কিছুটা বেশি। তবে সমস্যায় পড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ বেশি। তারা ব্যাংক থেকে ১৩-১৪ শতাংশ সুদে টাকা নিয়েছে। সুদ বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বিপদে পড়ে যাবে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের তারল্য সহায়তা দিলে সমস্যা হবে না। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে মিলে সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য একটা সমাধান বের করতে হবে, যাতে সবার জন্য ভালো হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই উদ্যোগ নিতে পারে।