১২ থেকে ১৫ এপ্রিল খোলা থাকবে ভ্যাট অফিসভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশআগামী বাজেটে কর্পোরেট কর এক বছরের জন্য বিশেষ ছাড়ের পরামর্শ
No icon

বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রি করলো ওয়ালটন

বুকবিল্ডিং পদ্ধতির আওতায় পুঁজিবাজারে আসছে দেশের সবচেয়ে বড় ইলেকট্রনিক্স কোম্পানি ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ১০০ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করবে। ব্র্যান্ডের পরিচিতি, ব্যাপক ব্র্যান্ডিং এবং কোম্পানির বিপুল মুনাফা ইত্যাদি কারণে এ কোম্পানির আইপিওকে ঘিরে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বুকবিল্ডিং পদ্ধতি অনুসারে, ইতোমধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সংরক্ষিত শেয়ার বিক্রি করার লক্ষ্যে নিলাম (Bidding) সম্পন্ন হয়েছে। সংশোধিত আইন অনুসারে, সর্বোচ্চ দাম থেকে ওই শেয়ার শেয়ার বিক্রি করা শুরু হয়। আর নির্দিষ্ট পরিমাণ অঙ্কে এসে শেয়ার বিক্রি শেষ হয়। এর মধ্যে যে প্রতিষ্ঠান যত টাকায় যতগুলো শেয়ার কেনার প্রস্তাব করেছে, তাদেরকে ততগুলো শেয়ার কিনতে হয়েছে। যে দামে (৩১৫) শেয়ার বিক্রি শেষ হয়েছে, সেটি কাট-অফ প্রাইস। এই দামের উপর ১০ শতাংশ ছাড় দিয়ে তথা ১০ শতাংশ কম দামে (২৮৪) সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রি করা হবে।

ওয়ালটনের শেয়ারের নিলামে সর্বোচ্চ ৭৬৫ এবং সর্বনিম্ন ১২ টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। তবে বেশিরভাগ প্রস্তাব ছিল ২৫০ টাকার বেশি। নিলামে ২৩৩টি প্রস্তাব জমা পড়ে। কাট-অফ প্রাইস নির্ধারণ হয় ৩১৫ টাকা। আর প্রাপ্ত সব প্রস্তাবের ভারিত্ব গড় (Weighted Average) ৪৩৭ টাকা ৭৭ পয়সা।

দর প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কোম্পানিটির শেয়ারের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। এর ফলে কোনো কোনো দর প্রস্তাবে যৌক্তিকতার চেয়ে আবেগের আতিশয্য বেশি প্রতিফলিত হয় বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে নতুন আইন অনুসারে যে প্রতিষ্ঠান যে দর প্রস্তাব করেছে, সেই দরেই শেয়ার কিনতে হচ্ছে বলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে মনে করেন তারা। যদি তাদের দেওয়া প্রস্তাবের চেয়ে সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ারের দাম কম থাকে তাহলে কিছু প্রতিষ্ঠানকে লোকসান দিতে হবে। এর ফলে আগামী দিনে নিলামে দর প্রস্তাব করার ক্ষেত্রে তারা অনেক বেশি সতর্ক থাকবে। এভাবেই ধীরে ধীরে নতুন পদ্ধতির সুফল আসতে থাকবে।

কোন প্রতিষ্ঠান কত প্রস্তাব করেছে-

ওয়ালটনের শেয়ারের নিলামে ২৩৩টি প্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্য ৬৭টি প্রতিষ্ঠান নিলামে জয়ী হয়ে শেয়ার কিনতে সক্ষম হয়।

ওয়ালটনের শেয়ারের জন্য সবচেয়ে বেশি দর প্রস্তাব করেছে ইসলামী ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য দর প্রস্তাব করেছে ৭৬৫ টাকা। এই দরে ১০০ শেয়ার কিনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দর প্রস্তাব করেছে এগ্রো গার্ডেন লিমিটেড এমপ্লয়িজ ফান্ড। এই ফান্ডের জন্য ৬৮৪ টাকা দরে ১৪ হাজার ৬০০ শেয়ার কেনা হয়েছে।

তৃতীয় সর্বোচ্চ দরে ১৫ হাজার ৬০০ শেয়ার কিনেছে ইউনাইটেড সিকিউরিটিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ওয়ালটনের প্রতিটি শেয়ারের জন্য দাম দিয়েছে ৬৪১ টাকা।

এগ্রো গার্ডেন লিমিটেড গ্রাচুইটি ফান্ড ৬৩২ টাকা দরে ১৫ হাজার ৮০০ শেয়ার কিনেছে।

ওয়ালটনের শেয়ারের জন্য ৬২৮ টাকা দর দিয়েছে সিডব্লিউ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৯০০ শেয়ার কিনেছে।

৬২৫ টাকা দরে ওই শেয়ার কিনছে ৭টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে আইডিএলসি পরিবারেরই রয়েছে ৬টি প্রতিষ্ঠান। আইডিএলসি গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে আইডিএলসি ফাইন্যান্স, আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট শরীয়াহ ফান্ড, আইডিএলসি ব্যালান্সড ফান্ড, আইডিএলসি গ্রোথ ফান্ড এবং আইডিএলসি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড। এর প্রত্যেকেই ১৬ হাজার করে শেয়ার কিনেছে। একই দরে শেয়ার কিনেছে সিডব্লিউ এমার্জিং বাংলাদেশ ফার্স্ট গ্রোথ ফান্ড।

এনআরবিসি ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড ৬০০ টাকা দরে ১৬ হাজার ৫০০ শেয়ার কিনেছে।

এক নজরে প্রস্তাবিত দাম:

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর নাম শেয়ারের দাম শেয়ার সংখ্যা
ইসলামী ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ৭৬৫ ১০০
এগ্রো গার্ডেন এমপ্লয়িজ ফান্ড ৬৮৪ ১৪,৬০০
ইউনাইটেড সিকিউরিটিজ ৬৪১ ১৫,৬০০
এগ্রো গার্ডেন গ্রাচুইটি ফান্ড ৬৩২ ১৫,৮০০
সিডব্লিউ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ৬২৮ ১৫,৮০০
আইডিএলসি ফাইন্যান্স ৬২৫ ১৬,০০০
আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট ৬২৫ ১৬,০০০
আইডিএলসি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট শরীয়াহ ফান্ড ৬২৫ ১৬,০০০
আইডিএলসি ব্যালান্সড ফান্ড ৬২৫ ১৬,০০০
আইডিএলসি গ্রোথ ফান্ড ৬২৫ ১৬,০০০
আইডিএলসি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড ৬২৫ ১৬,০০০
সিডব্লিউ এমার্জিং বিডি ফার্স্ট গ্রোথ ফান্ড ৬২৫ ১৬,০০০
শেলটেক ব্রোকারেজ ৬২০ ১৬,১০০
এনআরবিসি সিকিউরিটিজ ৬০০ ১৬,৫০০
টেক ইনোভেশন বিডি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড ৬০০ ১৬,৫০০
ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ৫৭১ ১৭,৫০০
ডাবলএইচ ট্রেডিং লিমিটেড এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ৫৫২ ১৮,১০০
এম জুবায়ের সিকিউরিটিজ ৫০০ ২০,০০০
জেনিথ অ্যানুয়াল ইনকাম ফান্ড ৫০০ ২০,০০০
পেনিনসুলা এএমসিএল বিডিবিএল ইউনিট ফান্ড ৪৯৭ ২০,১০০
পেনিনসুলা সাধারণ বীমা করপোরেশন ইউনিট ফান্ড ৪৯৭ ২০,১০০
ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ৪৯৬ ২০,১০০
মিকা সিকিউরিটিজ ৪৮০ ২০,৮০০
এলোকো সিকিউরিটিজ ৪৫৭ ২১০০
প্রাইলিংক সিকিউরিটিজ ৪৫৩ ২২,০০০
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ ৪৫০ ২২,০০০
লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড ৪৫০ ২২,০০০
লংকাবাংলা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ৪৪৯ ৬০০০
লংকাবাংলা ফার্স্ট ব্যালান্স ইউনিট ফান্ড ৪৪৯ ২২,২০০
লংকাবাংলা আল-আরাফা শরীয়াহ ইউনিট ফান্ড ৪৪৯ ২২,২০০
মিডল্যান্ড ব্যাংক ৪৪০ ২৯,৪০০
ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন সার্ভিসেস ৪৩৫ ২২,৯০০
আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ৪৩৫ ২২,৯০০
সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড-১ ৪৩০ ২৩,২০০
সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড ৪৩০ ২৩,২০০
সিএপিএম ইউনিট ফান্ড ৪৩০ ২৩,২০০
কাজী ইক্যুইটিজ ৪২৪ ২৩,৫০০
লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ৪১৬ ২৪,০০০
শান্তা আমানাহ শরীয়াহ ফান্ড ৪১৪ ২৪,১০০
শান্তা অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড ৪১৪ ২৪,১০০
শান্তা ফার্স্ট ইনকাম ইউনিট ফান্ড ৪১৪ ২৪,১০০
আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমটেড ৪১১ ২৪,৩০০
আইডিএলসি সিকিউরিটিজ লিমিটেড ৪১১ ২৪,৩০০
আইডিএলসি সিকিউরিটিজ এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড ৪১১ ১৩,০০০
জাহান সিকিউরিটিজ ৪১০ ২৪,৩০০
ইউএফএস-ব্যাংক এশিয়া ইউনিট ফান্ড ৪০৬ ২৪,৬০০
ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ ৪০৫ ২৪,৬০০
ইউএফএস-আইবিবিএল শরীয়াহ ইউনিট ফান্ড ৪০২ ২৪,৮০০
ইউএফএস-পদ্মা লাইফ ইসলামিক ইউনিট ফান্ড ৪০২ ২৪,৮০০
ইউএফএস-প্রগতি লাইফ ইউনিট ফান্ড ৪০২ ১৮,৯০০
ইউএফএস-পপুলার লাইফ ইউনিট ফান্ড ৪০২ ২৪,৮০০
আকিজ সিকিউরিটিজ ৪০০ ১২,৫০০
ইউনিক শেয়ার ম্যানেজমেন্ট ৪০০ ২৫,০০০
ইস্টার্ন শেয়ার অ্যান্ড সিকিউরিটিজ লিমিটেড ৩৭০ ২৭,০০০
সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ৩৬০ ২৭,০০০
সিটি ব্রোকারেজ লিমিটেড ৩৫৫ ২৮,১০০
ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ৩৫২ ২৮,৪০০
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ৩৫২ ২৮,৪০০
এমিনেন্ট সিকিউরিটিজ ৩৫০ ২৮,৫০০
এশিয়ান টাইগার্স ক্যাপিটাল পার্টনারস ইনভেস্টমেন্ট ৩৪৯ ২৮,৬০০
এজ বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড ৩২৫ ৩০,০০০
এজ এএমসি গ্রোথ ফান্ড ৩২৫ ১৫,০০০
গ্রামীণ ওয়ান স্কিম টু ৩২০ ৩১,২০০
রিলায়েন্স ইন্যুরেন্স মিউচুয়াল ফান্ড ৩২০ ৩১,২০০
ডিএমআর সিকিউরিটিজ ৩২০ ৩১,০০০
সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস ৩১৫ ৩১,৭০০

আলোচিত তালিকা অনুসারে ওয়ালটনের শেয়ার কেনার জন্য প্রস্তাবিত দরের ভারীত্ব গড় ছিল ৪৩৭ টাকা ৭৭ পয়সা। নিলামে অংশ নেওয়া ৩২টি প্রতিষ্ঠান গড় দামের চেয়ে বেশি দামে শেয়ার কিনেছে। আর ৩৫টি প্রিষ্ঠান গড় দামের চেয়ে কম দামে ওই শেয়ার কিনতে সক্ষম হয়েছে।