৩১ মে থেকে ফের শেয়ারবাজারে লেনদেনকরোনা মোকাবিলায় বাজেটে জরুরি বরাদ্দ থাকছে ১০ হাজার কোটি টাকা'পেট ভরে খেতে পারলেই হলো, বাজেটের খোঁজ রাখি না'ঈদের ছুটিতেও শুল্ক স্টেশন খোলা‘এবারের বাজেট বেঁচে থাকার বাজেট’
No icon

ভ্যাট রিটার্ন অর্ধেকে নেমেছে

করোনার কারণে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট রিটার্ন জমা অর্ধেকে নেমে এসেছে। করোনার সংক্রমন ঠেকাতে প্রায় দুই মাস ধরে সাধারণ ছুটি চলছে। এই ছুটির মধ্যে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর যেমন বেচাকেনা নেই, তেমনি মাসিক ভ্যাট রিটার্ন জমায় আগ্রহও নেই। নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী, প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হয়। গত শুক্রবার চলতি মাসের সময়সীমা শেষ হয়েছে। ওই দিন সারা দেশের ২৫২ টি সার্কেল অফিস বিশেষ ব্যবস্থায় খোলা রাখা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বর্তমানে ১ লাখ ৭৮ হাজার ভ্যাট নিবন্ধন নেওয়া প্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে প্রতি মাসে গড়ে এক লাখের মতো প্রতিষ্ঠান রিটার্ন জমা দিয়ে থাকে। কিন্তু করোনার কারণে রিটার্ন জমা অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। চলতি মাসে ( মে) সাড়ে ৪২ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে। রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। গত এপ্রিল মাসে রিটার্ন জমা হয়েছিল সাড়ে ৩১ হাজার। রাজস্ব আদায় ছিল তিন হাজার কোটি টাকার বেশি।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, সাধারণ ছুটি থাকায় হিসাবনিকাশ করার কর্মীরা ছুটিতে আছেন। সংক্রমন ঝুঁকির কারণে বেশিরভাগ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানও পুরোপুরি বন্ধ। এমন অবস্থায় কোনোভাবেই নির্ধারিত সময়ে ভ্যাট রিটার্ন দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

গত জুলাই মাসে চালু হওয়া নতুন ভ্যাট আইনে রিটার্ন জমার সময় বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। সময়মতো ভ্যাট রিটার্ন জমা না দিলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও ভ্যাটের টাকার সুদ দেওয়ার বিধান আছে। কিন্তু করোনার কারণে সৃষ্ট বিশেষ পরিস্থিতিতে আইনে সংশোধনী আনার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গত ৭ মে মন্ত্রিসভায় এই নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
ভ্যাট কমিশনারেট (ঢাকা পূর্ব) কার্যালয় সূূত্রে জানা গেছে, এই কমিশনারেটের অধীনে ১০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধন নিয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত ভ্যাট রিটার্ন দেয় সাড়ে ৫ হাজারের মতো প্রতিষ্ঠান। তবে চলতি মে মাসে ৩ হাজার ১শর মতো প্রতিষ্ঠান ভ্যাট রিটার্ন দিয়েছে। এক হাজারে বেশি শুণ্য রিটার্ন জমা দিয়েছে। এর মানে, এসব প্রতিষ্ঠানে এপ্রিল মাসে কোনো বেচাকেনা হয়নি, বন্ধ ছিল।

ভ্যাট কমিশনারেটের (ঢাকা পূর্ব) কমিশনার শওকত হোসেন বলেন, করোনার কারণে সব কিছু বন্ধ থাকায় অন্য সময়ের তুলনায় অর্ধেকের কিছু বেশি রিটার্ন জমা পড়েছে।
রিটার্ন জমায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে যশোর ভ্যাট কমিশনারেট। এই কমিশনারেটে প্রথম থেকেই অনলাইনে ভ্যাট রিটার্ন জমার সুযোগ সৃস্টি করা হয়েছে। প্রতি মাসে ৯৬-৯৭ শতাংশ ভ্যাট রিটার্ন অনলাইনে জমা হয়। এবার সেখানেও রিটার্ন কিছুটা কম পড়েছে। এই কমিশনারেটে বর্তমানে ১০ হাজার ৬৬৭ টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত আছে। এর মধ্যে চলতি মে মাসে প্রায় ৯ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট রিটার্ন জমা দিয়েছেন। মাত্র নয়টি প্রতিষ্ঠান সনাতনী পদ্ধতিতে ভ্যাট কার্যালয়ে রিটার্ন জমা দিয়েছে।

এই কমিশনারেটের কমিশরার জাকির হোসেন বলেন, মে মাসে ৮৭ শতাংশ রিটার্ন জমা পড়েছে। সব ভ্যাটদাতা যদি অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারতেন, তবে এই ধরনের বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজস্ব নিয়ে চিন্তা করতে হতো না।

জানতে চাইলে পুরান ঢাকার মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক গোলাম মওলা বলেন,মৌলভীবাজারের ২০-৩০ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলা হয়েছে। বাকিগুলো এখনো বন্ধ। তাই ভ্যাট রিটার্ন জমার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।