নতুন রপ্তানি নীতির খসড়া অনুমোদনপ্রণোদনার অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দুই কোটি টাকা খরচ করে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু : এনবিআরচলতি অর্থবছরে কালোটাকা সাদা করায় তেমন সাড়া মিলছে না ৬৩% টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেননি এ
No icon

পরিবহন ধর্মঘটে পিছিয়ে গেছে কনটেইনার পণ্য রপ্তানি

জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর প্রতিবাদে গত শুক্রবার পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেন মালিকেরা। গতকাল এক বৈঠকে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হওয়ার পর বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। তবে পণ্য পরিবহনে ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাক কাভার্ড ভ্যানের মালিকেরা।
ধর্মঘটের প্রভাবে গতকাল বন্দর ছেড়ে যেতে পারেনি তিনটি কনটেইনার জাহাজ। এই তিনটিসহ আজ সোমবার সাতটি কনটেইনার জাহাজ বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময়সূচি রয়েছে। রপ্তানি কনটেইনার না পেলেও এসব জাহাজের কয়েকটি বন্দর ছেড়ে যেতে পারে বলে বন্দর ও শিপিং এজেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

পরিবহন ধর্মঘটে রপ্তানি পণ্য পরিবহনের চক্র পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। তৃতীয় দিন গতকাল রোববার ১ হাজার ৯০০ কনটেইনার পণ্য রপ্তানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। এ নিয়ে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে অপেক্ষায় থাকা ৯ হাজার ৭৮০ কনটেইনার পণ্যের রপ্তানি পিছিয়ে গেছে।

বন্দরের তথ্যানুযায়ী, সমুদ্রপথে রপ্তানি কনটেইনারের ৯৮ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে রপ্তানি হয়। প্রতিদিন এ বন্দর দিয়ে গড়ে ১ হাজার ৯০০ কনটেইনার পণ্য বিদেশে পাঠানো হয়। এক দিনের দেরি হওয়ার অর্থ হচ্ছে, এসব রপ্তানি পণ্যের স্তূপ জমে যাওয়া। গত জুলাই মাসের শুরুতে বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোতে রপ্তানি পণ্যের জটে পড়ে রপ্তানি পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।
জানতে চাইলে পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পরিবহন ধর্মঘটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তৈরি পোশাক রপ্তানি। ধর্মঘটে পোশাক খাতের কাঁচামাল যেমন কারখানায় যাচ্ছে না, তেমনি কারখানায় প্রস্তুত হওয়া পোশাক ডিপো বা বন্দরে নেওয়া যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। জানতে চাইলে বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক না হলে আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা যাবে না। ধর্মঘটের কারণে এখন ডিপো থেকে রপ্তানি পণ্য বন্দরে আনা যাচ্ছে না। আবার বন্দর থেকে আমদানি পণ্যও সেভাবে খালাস করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।
ধর্মঘটের কারণে রপ্তানির পাশাপাশি আমদানি করা কাঁচামালও খালাস করা যাচ্ছে না।  গতকাল বন্দরে ৩৮ হাজার ৭৮৩ কনটেইনার এবং বেসরকারি ডিপোগুলোতে ৮ হাজার ৪০০ কনটেইনার আমদানি পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিন হাজার কনটেইনার পণ্য খালাস হয়। সেখানে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আমদানিকারকেরা খালাস করতে পেরেছেন ৩২৯ কনটেইনার পণ্য। খালাস করে এসব পণ্য কারখানায় নেওয়া সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।