করপোরেট কর কমছে বাড়ছে সম্পদ করসংবাদপত্রের করপোরেট করহার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব সম্পাদকদেরআরজেএসসি ঘরে বসেই কোম্পানি নিবন্ধনের সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা খারিজ হয়নি : বাংলাদেশ ব্যাংকরাশিয়ার ঋণের পরিমাণ ২৬ হাজার ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার প্রায়
No icon

উচ্চ শুল্কের কারণে ভারতে আসছে না টেসলার গাড়ি

কয়েক বছর আগে ভারতে হার্লে ডেভিডসনের বাইক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যে উচ্চ শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তোপ দেগেছিলেন। ভারতকে শুল্কের রাজা বলেছিলেন তিনি। গাড়ির কর নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে টয়োটা কির্লোস্কর মোটরের ভাইস চেয়ারম্যান শেখর বিশ্বনাথনের অভিযোগ ছিল, এতে চাহিদা ধাক্কা খায়। উৎপাদন ক্ষমতা বা কর্মসংস্থান, কোনোটিই বাড়ে না খুব একটা। উল্টো শাস্তিমূলক কর বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে। গাড়িশিল্পের সংগঠন সিয়ামও কেন্দ্রের কাছে কর হ্রাসের আরজি জানিয়েছে। সূত্রের খবর, শুধু উচ্চ শুল্ক নিয়ে মাস্কের সরব হওয়াই নয়, শুল্ক কমাতে মোদি সরকারকে আরজি জানিয়েছে টেসলাও।

বর্ণিল চরিত্রের অধিকারী তিনি। তাঁকে ঘিরে উন্মাদনা বিশ্বজুড়েই। অথচ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজার ভারতে আসি আসি করেও আসছেন দুই বছর ধরে। আশ্বাসও দিয়েছেন, কিন্তু শেষমেশ আর আসেননি।
তাঁর কোম্পানির নথিভুক্ত কার্যালয়ও খোলা হয়েছে ভারতের বেঙ্গালুরুতে। কিন্তু ঠিক কবে যুক্তরাষ্ট্রের সেই বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি টেসলাকে নিয়ে প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইলন মাস্ক ভারতে আসবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। অবশেষে তিনি নিজেই খোলসা করলেন সেই দেরির কারণ। তাঁর বার্তা, সেই পথে বাধা মূলত ভারতের চড়া শুল্ক। বৈদ্যুতিক গাড়ির সহায়ক পরিবেশ তৈরি প্রসঙ্গে ভারতের মনোভাব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন টেসলা কর্ণধার। শর্ত দিয়েছেন, আমদানি করা গাড়ি বিক্রি সফল হলেই কেবল ভারতে কারখানা নির্মাণের কথা ভাবা হবে। মোদি সরকার যখন বৈদ্যুতিক গাড়িতে জোর দেওয়ার কথা বলছে, তখন মাস্কের এই বার্তা নিঃসন্দেহে তাদের সেই প্রচার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের।
বহু দিন ধরেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে মাস্ককে ভারতে পা রাখার আহ্বান জানাচ্ছিলেন নেটিজেনরা। সম্প্রতি সেই পথে হেঁটেই তাঁকে সরাসরি বার্তা পাঠান ইউটিউবার মদন গৌরী। তাঁর টুইট, ভারতে টেসলার গাড়ি নিয়ে আসুন। তারই জবাবে মাস্ক বলেন, আমরা তা চাই। কিন্তু (ভারতে) আমদানি শুল্ক বিশ্বে সবচেয়ে বেশি। তা ছাড়া শুদ্ধ জ্বালানির (বৈদ্যুতিক) গাড়িকে ভারতে ডিজেল-পেট্রলের গাড়ির সঙ্গে একই ভাবে দেখা হয়, যা আবহাওয়া (দূষণ) সংক্রান্ত ভারতের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে খাপ খায় না।

একই সঙ্গে অবশ্য ইলন মাস্কের আশা, বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে অন্তত সাময়িকভাবে শুল্ক কমাবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সেই সঙ্গে ভারতে যন্ত্রাংশ জুড়ে গাড়ি তৈরি করা সম্ভব কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে তাঁর দাবি, ভারত আমদানি করা গাড়ি বিক্রিতে সফল হলে ভবিষ্যতে কারখানা তৈরির পথ খোলা।

বস্তুত, সম্পূর্ণ তৈরি গাড়ি আমদানি করলে ইঞ্জিনের ক্ষমতাসহ বিভিন্ন মাপকাঠির ভিত্তিতে ৬০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপিত হয়। পাশাপাশি, ভারতেও বড় গাড়ির ক্ষেত্রে জিএসটি ও সেস নিয়ে করের হার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। মোদি সরকার আমদানি খরচ কমাতে ভারতে বিনিয়োগ টানতে উৎসাহী। গাড়িশিল্পের একাংশের মতে, উচ্চ কর সেই বিনিয়োগ বা বিদেশি প্রযুক্তি প্রবেশের পথে অন্তরায়, দামি ও আধুনিক প্রযুক্তির গাড়ির যন্ত্রাংশ এখানে তৈরি করতে হলে যার বিকল্প নেই। বিশেষত বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির বিকাশ না ঘটলে কেন্দ্র যতই সেই গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে প্রচার চালাক না কেন, তা ধাক্কা খাবে। এ পরিস্থিতিতে আপাতত কেন্দ্র কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং কবে টেসলার গাড়ি আসে, সেদিকেই সবাই তাকিয়ে।