→ আয়কর না দিলে কি বিদ্যুৎ-গ্যাসের লাইন কেটে দেবে?→ ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ালো এনবিআর, শেষ সময় ২৫ অক্টোবর→ দুর্গাপূজার ছুটিতেও সীমিত আকারে চলবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম→ এনবিআরের রাজস্ব আদায়ে ২৫,৪৯১ কোটি টাকা ঘাটতি→ ট্যাক্স লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রমিজউদ্দিন, মহাসচিব মাজম আলী খান
No icon

আয়কর না দিলে কি বিদ্যুৎ-গ্যাসের লাইন কেটে দেবে?

চলছে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের কর দেওয়া। অনেকেই এরই মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন অনেকেই এখনো করেননি। আয়কর রিটার্ন দাখিল করা শুধু করদাতার নিয়মিত দায়িত্বই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন আর্থিক জটিলতায় পড়তে পারেন করদাতা। এমনকি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি কিংবা ইন্টারনেটের মতো পরিষেবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতাও রয়েছে কর কর্তৃপক্ষের। তবে রিটার্ন জমা না দিলেই সবার বাড়ির বিদ্যুৎ বা গ্যাসের লাইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে দেওয়া হবে, বিষয়টি এমন নয়।

আয়কর রিটার্ন না দিলে কী হতে পারে?

আয়কর আইন অনুযায়ী, যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে আয়কর রিটার্ন দাখিল না করলে করদাতাকে জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে। বাংলাদেশের আয়কর আইন, ২০২৩-এর ২৬৬ ধারায় সর্বশেষ নিরূপিত আয়ের ১০ শতাংশ অথবা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। তবে জরিমানার পরিমাণ ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে আইনের নির্ধারিত শর্ত প্রযোজ্য।এছাড়া রিটার্ন দাখিলের ব্যর্থতা অব্যাহত থাকলে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনার প্রতিদিন ৫০ টাকা করে জরিমানা ধার্য করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রেও করদাতার পূর্ববর্তী কর নির্ধারণের ইতিহাস অনুযায়ী জরিমানার সীমা ও হিসাব আলাদা হতে পারে। অর্থাৎ সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে শুধু জরিমানা নয়, করসংক্রান্ত অন্যান্য জটিলতারও আশঙ্কা থাকে।

বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংযোগ কি সত্যিই কেটে দেওয়া হতে পারে?

আয়কর আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কর কর্মকর্তাদের বিভিন্ন পরিষেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ক্ষমতা থাকতে পারে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও ইন্টারনেটের মতো পরিষেবাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান ও প্রযোজ্য প্রক্রিয়া মানতে হবে। তাই আয়কর রিটার্ন জমা না দিলেই সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বা গ্যাসের সংযোগ কেটে দেওয়া হবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। করদাতার পরিস্থিতি, আইনগত শর্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর বিষয়টি নির্ভর করতে পারে।

বাড়তি কর ও করছাড়ে প্রভাব পড়তে পারে

নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে জরিমানার বাইরেও আর্থিক প্রভাব পড়তে পারে। আয়কর আইনের ১৭৪ ধারার অধীনে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্য কর রেয়াত বা করছাড়ের সুবিধা সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী অতিরিক্ত কর পরিশোধের দায়ও তৈরি হতে পারে। তবে অতিরিক্ত করের হার, করছাড়ের সীমা এবং কোন পরিস্থিতিতে কোন বিধান কার্যকর হবে, তা করদাতার ধরন ও প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। তাই সবার ক্ষেত্রে একই নিয়মে আর্থিক শাস্তি কার্যকর হবে, এমনটি ধরে নেওয়া উচিত নয়।

অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের নিয়ম

বর্তমান করব্যবস্থায় ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন বা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা রয়েছে। নির্দিষ্ট করবর্ষে যাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তাদের নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। তবে বিশেষ কিছু শ্রেণির করদাতার ক্ষেত্রে ছাড় বা বিকল্প ব্যবস্থার সুযোগ থাকতে পারে। ১ কোটি ১৫ লাখের বেশি টিআইএনধারীর বিপরীতে ৩১ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন। এই সংখ্যা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের সময়ের তথ্য; বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে এর পার্থক্য থাকতে পারে।

কী করবেন করদাতারা?

আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা জমা দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ। রিটার্ন দিতে দেরি হয়ে গেলে বা কোনো কারণে জমা দেওয়া সম্ভব না হলে, সংশ্লিষ্ট কর অফিস কিংবা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্দেশনা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রিটার্ন না দিলে বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনা আইনে থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয় শাস্তি নয়। জরিমানা, করছাড়ের সুবিধা কিংবা পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করার মতো পদক্ষেপের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন ও শর্ত বিবেচনা করতে হবে। তাই গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে নিজের করদায় ও রিটার্ন দাখিলের নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।