নতুন রপ্তানি নীতির খসড়া অনুমোদনপ্রণোদনার অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দুই কোটি টাকা খরচ করে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু : এনবিআরচলতি অর্থবছরে কালোটাকা সাদা করায় তেমন সাড়া মিলছে না ৬৩% টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেননি এ
No icon

আয়কর নথিতে অপ্রদর্শিত সম্পত্তি থাকলে যা করবেন

আয়কর নথিতে যদি জমি, বাড়ি বা ফ্ল্যাটের সঠিক বিবরণ না থাকে, তবেই বিপত্তি। আয়কর নথিতে কীভাবে সম্পত্তির মূল্য দেখাতে হবে, সে বিষয়ে অনেকের সঠিক ধারণা থাকে না। ফলে গুনতে হয় অতিরিক্ত কর। এমনকি জেল বা জরিমানারও শঙ্কা থেকে যায়।

জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বেশ কিছু জটিলতা দেখা যায়। এ জন্য বাংলাদেশের প্রচলিত আইন, আয়কর আইন এবং প্রচলিত পদ্ধতি মাথায় রাখতে হয়। সাধারণত জমি, ফ্ল্যাট বা বাড়ির প্রকৃত মূল্য এবং ক্রয় বা বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্য থাকে। জমি বিক্রির ক্ষেত্রে ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত দলিল খরচ হয়।

যাঁদের আগে আয়কর ফাইল ছিল, কোনো কারণে আয়কর নথিতে কোনো সম্পত্তি দেখানো হয়নি, তাহলে এ বছর নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে সেই সম্পত্তি নথিতে প্রদর্শন করা যাবে। আয়কর কার্যালয় বিভিন্ন সময় নথিপত্র যাচাই-বাছাই বা নিরীক্ষা করে। এ সময় বাড়ি, জমি বা ফ্ল্যাটের সন্ধান পেলে সংশ্লিষ্ট করদাতাকে নোটিশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সরকারি অনেক কর্তৃপক্ষের তথ্যভান্ডার বা ডেটাবেইসের তথ্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে থাকে। সেসব তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে আয়কর নথি মিলিয়ে দেখার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তাই সম্পত্তির তথ্য গোপন করলে নোটিশ পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আয়কর আইন বিভিন্ন সময় পরিবর্তন করা হয়। এ ক্ষেত্রে যে বছর সম্পত্তি ক্রয় বা বিক্রি করা হয়, সে বছরের প্রযোজ্য আইন জেনে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন তৈরি করতে হবে।

জমির মূল্যবৃদ্ধি প্রদর্শন

আপনি যে কর বছরে সম্পত্তি ক্রয় করেছেন, সংশ্লিষ্ট বছরের ক্রয়মূল্যে সম্পত্তির মূল্য দেখাতে হবে। পরবর্তী সময়ে যতই মূল্যবৃদ্ধি হোক না কেন, সব সময় ক্রয়মূল্যই থাকবে। বর্ধিত মূল্য বা বাজারমূল্য দেখানো যাবে না। সিটি করপোরেশন এলাকায় যাঁদের গৃহ সম্পত্তি আছে এবং বিনিয়োগ করেছেন এবং ৪০ লাখ টাকার বেশি যাঁদের মোট সম্পত্তি, তাঁরা ১ পাতার ফরম ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে অন্য ফরম ব্যবহার করতে হবে।

সম্পত্তির মালিকানা মোটাদাগে তিনভাবে অর্জিত হতে পারে

১. উত্তরাধিকারসূত্রে।

২. আপনজনের (স্বামী/স্ত্রী, পিতা/মাতা, সন্তান, ভাই অথবা বোন) কাছ থেকে দানসূত্রে।

৩. ক্রয়সূত্রে।

জমি, ফ্ল্যাট ক্রয় বা প্রাপ্তিতে যে বিষয়গুলো লক্ষ রাখতে হবে

১. জমি, ফ্ল্যাট বা বাড়ি উত্তরাধিকার এবং দানসূত্রে পাওয়া গেলে যে কর বছরে সেটি অর্জন করা হয়, সে কর বছরেই উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ হিসেবে দেখাতে হবে। এ ক্ষেত্রে মূল্য লিখতে হবে অজানা।

২. যে পরিমাণ টাকা এ খাতে বিনিয়োগ করবেন, সে ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে আয়কর নথিতে সে পরিমাণ টাকার বৈধ উৎস আছে কি না।

৩. অনেক সময় জমি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে অনেকে আত্মীয়স্বজন বা তৃতীয় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ বা দান গ্রহণ করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে লক্ষ রাখতে হবে, নগদে ঋণ বা দান যাতে কোনোক্রমেই পাঁচ লাখ টাকার বেশি না হয়। তার বেশি হলে ক্রস চেকের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। ঋণ বা দান উভয়ই একসঙ্গে যদি পাঁচ লাখ টাকার বেশি হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বছরের আয় হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ পুরো টাকার ওপর আয়কর দিতে হবে।


৪. জমি/ফ্ল্যাট/বাড়ি যদি স্বামী, স্ত্রী, সন্তান এবং পিতা বা মাতা কিনে দেন, সে ক্ষেত্রে আয়কর ফাইলে যিনি কিনে দেবেন, তাঁর আয়কর নথিতে টাকা থাকতে হবে এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পরিশোধ করাটাই ভালো।

৫. কোনো বিনিয়োগ সুবিধা পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ কোনো আয়কর রেয়াত পাওয়া যাবে না।

৬. ফ্ল্যাট, দালান বা বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে আয়কর নথিতে পর্যাপ্ত টাকা দেখাতে না পারলে প্রতি বর্গমিটারের জন্য নির্দিষ্ট হারে আয়কর প্রদান করতে হবে। তাতে ফ্ল্যাট, দালান বা বাড়ি নির্মাণের ব্যাখ্যা থেকে অব্যাহতি পাওয়া যেতে পারে।

৭. বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে গণপূর্ত অধিদপ্তরের রেট অনুযায়ী নির্মাণ খরচ বের করতে হবে।

৮. জমির ক্রয়মূল্যের সঙ্গে জমির দলিলের খরচ যুক্ত করে জমির মূল্য দেখাতে হবে।

৯. আয়কর রিটার্নের সঙ্গে দলিল বা বণ্টননামার ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে।

জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রিতে যেসব বিষয় লক্ষ রাখতে হবে

১. ক্রয় দলিল এবং বিক্রয় দলিলের ফটোকপি সংগ্রহে রাখতে হবে।

২. আমাদের দেশে জমির বিক্রয় দলিলে সাধারণত কম মূল্য দেখানো হয়। এ ক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে, যে পরিমাণ দাম কম দেখাচ্ছেন, তার অতিরিক্ত টাকা কালোটাকা হিসেবে গণ্য হবে।

৩. বিক্রয়মূল্য থেকে ক্রয়মূল্য এবং উৎসে আয়কর বাদ দিলে যে অতিরিক্ত টাকা পাওয়া যায়, তার ওপর আর কোনো অতিরিক্ত আয়কর দিতে হবে না।

৪. বিক্রয় দলিলের ফটোকপি আয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় সংযুক্ত করতে হবে।

৫. বিক্রি করা সম্পত্তির বিবরণী থেকে সম্পত্তির ক্রয়মূল্য বাদ দিতে হবে।

ডেভেলপারের মাধ্যমে ফ্ল্যাট নির্মাণের ক্ষেত্রে করণীয়

১. সংশ্লিষ্ট জমিটি অবশ্যই আপনার আয়কর নথিতে থাকতে হবে।

২. সাইনিং মানির ওপর ১৫ শতাংশ উৎসে কর চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে বিবেচিত হবে।

৩. ডেভেলপার কোম্পানি যখন ফ্ল্যাট হস্তান্তর করবে, আপনার আয়কর রিটার্নে তা বর্ণনাসহ উল্লেখ করতে হবে।