জাতীয় আয়কর দিবস আজরিটার্ন দাখিলের সময় বাড়াতে এনবিআরকেআগামীকাল শেষ দিন, রিটার্ন জমা দিতে কর অঞ্চলে ভিড়করদাতা ও গ্রহীতার সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ হতে হবেঢাকা উত্তরে করের বোঝা চেপেছে মানুষের ওপর
No icon

নতুন করদাতারা রিটার্ন দিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন

নিয়মিত করদাতাদের যেখানে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমার বাধ্যবাধকতা আছে, সেখানে নতুন করদাতারা আগামী ৩০ জুনের মধ্যে যে কোনোদিন চাইলে রিটার্ন দিতে পারবেন। এতে অনেক করদাতা উৎসাহিত হলেও বিপত্তি বেধেছে জরিমানা নিয়ে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারীকৃত আয়কর পরিপত্রে বিষয়টি স্পষ্ট না করায় মাঠপর্যায়ের কর কর্মকর্তারা দ্বিধায় পড়েছেন। বর্তমানে প্রায় ৭৮ লাখ  টিআইএনধারী আছেন। সরকারি-বেসরকারি সেবা নিতে তারা টিআইএন নিয়েছেন। কিন্তু এদের মধ্যে রিটার্ন জমা দেন ২৫ লাখের মতো। চলতি বাজেটে এ ধরনের করদাতাদের রিটার্ন জমায় উৎসাহিত করতে ট্যাক্স ডে-এর সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি সেবায় টিআইএনের পরিবর্তে রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদের প্রাপ্তি স্বীকারপত্র জমা দিতে এসএমএস ও ই-মেইলে জানিয়ে দিচ্ছে। এ কারণে বাধ্য হয়েই অনেকে রিটার্ন জমা দিতে চাচ্ছেন। কিন্তু জরিমানার ভয়ে অনেকেই রিটার্ন দিতে অনাগ্রহী হয়ে উঠছেন।

করযোগ্য আয় থাকা সত্ত্বেও রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা, সরল সুদ ও বিলম্ব সুদ আরোপের বিধান রয়েছে। আয়কর অধ্যাদেশের ১২৪ ধারায় বলা আছে, করদাতা যদি কোনো কারণ ছাড়াই নির্দিষ্ট সময়ে রিটার্ন দাখিল না করেন, আবার এজন্য অনুমোদনও না নেন, সেজন্য তার পূর্ববর্তী বছর প্রদেয় করের ১০ শতাংশ বা ১ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বড় অঙ্ক, ওই পরিমাণ অর্থ জরিমানা হবে। সেই সঙ্গে যতদিন দেরি হবে, প্রতিদিনের জন্য ৫০ টাকা জরিমানা আদায়ের বিধান রয়েছে।এবারের বাজেটে আয়কর আইনে যত পরিবর্তন আনা হয়, পরিপত্রের মাধ্যমে সেগুলোর ব্যাখ্যা স্পষ্ট করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, নতুন করদাতারা ৩০ জুন পর্যন্ত যে কোনোদিন সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। তবে আগে টিআইএন নিয়েছেন, করযোগ্য আয় ছিল, কিন্তু রিটার্ন জমা দেননি-এমন করদাতারাও একসঙ্গে বিগত বছরের রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে চলতি করবর্ষের (২০২২-২৩) রিটার্ন সর্বজনীন স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে জমা দেওয়া যাবে। আর বিগত করবর্ষের রিটার্ন সাধারণ পদ্ধতিতে জমা দিতে হবে। এখানেই যত বিপত্তি! সাধারণ পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দিলে নিয়ম অনুযায়ী সেই রিটার্ন অ্যাসেসমেন্ট করা হয়। অর্থাৎ রিটার্নে ঘোষিত করদাতা আয়-ব্যয়ের তথ্য, জীবনযাত্রার মান ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের সঠিকতা যাচাই করা হয়।

উপকর কমিশনার করদাতার কাগজপত্র যাচাই করে দেখতে পান, করদাতার আগেই রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল; কিন্তু রিটার্ন জমা দেননি। সেক্ষেত্রে কর কর্মকর্তার জরিমানা করার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।রিটার্ন জমা না দিলে যা হবে : এবারের বাজেটে সরকারি-বেসরকারি ৩৮ ধরনের সেবা পেতে রিটার্ন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আগে এসব সেবা পেতে শুধু টিআইএন সনদ দিলেই হতো। যেহেতু প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তাই সেবা পেতে রিটার্ন জমা দিতেই হবে। ব্যাংক হিসাব খোলা, ফিক্সড ডিপোজিট, সঞ্চয়পত্র কেনা, ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ, জমি কেনাবেচা, বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া, আমদানি-রপ্তানি সনদ নিতে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র লাগবে। এছাড়া ব্যাংকে প্রাপ্তি স্বীকারপত্র জমা না দিলে সুদ আয়ের ওপর বাড়তি উৎসে কর কাটা হবে। বর্তমানে সঞ্চয়পত্র বা ফিক্সড ডিপোজিটের সুদ আয়ের ওপর ১০ শতাংশ উৎসে কর কাটা হয়। প্রাপ্তি স্বীকারপত্র জমা না দিলে ১৫ শতাংশ উৎসে কর কাটা হবে।