সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ কোটি টাকাআগামী বাজেট দরিদ্রদের জন্য: অর্থমন্ত্রীসেবা পেতে রিটার্ন জমা স্লিপ বাধ্যতামূলক হচ্ছেএনবিআর লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়েব্যবসায়ীদের কাছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব চাইল এনবিআর
No icon

এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে

বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রভাবে দেশের ব্যবসাবাণিজ্যে প্রভাব পড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব আহরণেও। ফলে লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে বাজেট বাস্তবায়নে বড় চাপে পড়তে হচ্ছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম আট (জুলাই- ফেব্রুয়ারি) মাসে লক্ষ্যমাত্রা থেকে রাজস্ব আহরণে পিছিয়ে আছে ৪৪ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা। জানা গেছে, জুলাই-ফেব্রুয়ারি আট মাসে এনবিআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৯৬ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আহরিত হয়েছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এনিবআরের রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ফলে অর্থবছরের বাকি ৪ মাসে আহরণ করতে হবে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা।অন্যদিকে রাজস্ব আহরণে বিপুল ঘাটতির জন্য চলতি অর্থবছরে বাজেট বাস্তবায়ন সরকারের জন্য ক্রমেই দুরূহ হয়ে উঠছে। আগের বছরের মূল বাজেটের তুলনায় অনুন্নয়ন ব্যয়ে ১২.২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরা হলেও ২০২০-২১ অর্থবছরে বাস্তবে রাজস্ব ব্যয় বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে সাড়ে ৩৮ শতাংশ। সে তুলনায় ব্যয় করতে না পারায় চলতি অর্থবছরেও বাজেটের বড় অংশ অবাস্তবায়িত থেকে যেতে পারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে অনুন্নয়ন খাতে মূল বরাদ্দের মাত্র ২৫.৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে।

উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নের অবস্থা আরও বেশি নৈরাশ্যজনক। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বরাদ্দের তুলনায় বাস্তব উন্নয়নব্যয় কম হওয়ার কারণে চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন বরাদ্দ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩৩ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। অথচ অর্থবছরের ৫ মাস শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুসারে সারা বছরের উন্নয়ন বরাদ্দের মাত্র ১২.৪ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে আমদানি-রপ্তানিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৩৯৪ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে আদায় হয়েছে ৪৬ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ আট মাসে আমদানি-রপ্তানিতে রাজস্ব ঘাটতি ১৬ হাজার ২২১ কোটি টাকা। ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৭ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৫৮ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধু ভ্যাট আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৯ কোটি টাকা। আয়করে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৬ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা, আদায় হয়েছে ৪৬ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ আয়করে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের ৩টি খাতেই ঘাটতি বেড়ে চলছে। সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ঘাটতি বাড়ছে ভ্যাটে। নতুন আইন করে নানা ধরনের প্রণোদনা দিয়েও ভ্যাটে কার্যকর সাফল্য আসছে না।