করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো উচিত ছিলকর-ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বেবাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩০ পণ্যে কমছে করভোগ্য পণ্যে শুল্ক কমানোর পরামর্শনতুন করের বোঝা না চাপানোর অনুরোধ ডিএসই’র
No icon

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভ্যাট হারে পরিবর্তন আসতে পারে

আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা খাতে কর অবকাশ সুবিধা উঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। আবার আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে কিছু পণ্যে সম্পূরক শুল্ক কমানো হতে পারে। এ ছাড়া ভ্যাট হারের পরিবর্তনও আসতে পারে। আজ রোববার আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বৈঠকে আগামী বাজেটের আকারসহ কোথায় কর কমানো হতে পারে, কোথায় বাড়ানো হতে পারে—এমন প্রাথমিক প্রস্তাবগুলো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া আগামী বাজেটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শ নিয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে অর্থ প্রতিমন্ত্রী  উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এনবিআর চেয়ারম্যানসহ এনবিআরের আয়কর, মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও শুল্ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন ধরনের ২৭টি খাতে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা বর্তমানে কর অবকাশ সুবিধা পায়। এই কর অবকাশ সুবিধা আগামী ৩০ জুন শেষ হয়ে যাচ্ছে। আইএমএফের শর্ত হলো, এসব খাতের কর অবকাশের মেয়াদ আর না বাড়ানো। এনবিআর অন্তত ১২টি খাতে কর অবকাশ সুবিধা তুলে দিতে পারে। সভায় আইএমএফের শর্ত অনুসারে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট হারের প্রস্তাব করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ ছাড়া আমদানি ও সরবরাহ পর্যায়ে ভোগ্য পণ্য ও শিল্প খাতের অতি প্রয়োজনীয় কিছু পণ্যে সম্পূরক শুল্ক তুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

এদিকে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি সুবিধা সীমিত করার প্রস্তাবও উঠে আসে বৈঠকে। আগামী অর্থবছরে সংসদ সদস্যদের জন্য অন্তত আমদানি শুল্ক দিয়ে গাড়ি আনার প্রস্তাব করা হয় এনবিআরের পক্ষ থেকে। তবে অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। অর্থমন্ত্রী  তাঁর বক্তব্যে মোটাদাগে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। করদাতাদের ওপর চাপ যতটা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায় এবং স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় চলমান উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দেন অর্থমন্ত্রী। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ৩০ শতাংশ হারে একটি কর স্তর রাখা হতে পারে। এর মানে হলো বর্তমানে সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশ। এরপর আরেকটি করহার ৩০ শতাংশ করা হবে। শিগগিরই আগামী বাজেটে শুল্ক–করসংক্রান্ত প্রাথমিক প্রস্তাবগুলো প্রতিবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হবে।