এখন থেকে যেকোনও কোম্পানির আর্থিক হিসাব যাচাই করতে পারবে এনবিআর টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ২১২৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবিগ্রামীণ ব্যাংকের ৬৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকিআপাতত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫% আয়কর নেওয়া যাবে নাসৌদি আরবের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
No icon

নগদের ব্যাংক হিসাব খোলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শর্ত

মোবাইলে আর্থিক সেবা (এমএফএস) নগদ এত দিন পরিচালনা করছিল থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড। থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড নাম পরিবর্তন করে নগদ লিমিটেড হয়ে গেছে। এতে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিসের শেয়ারধারীদের পাশাপাশি নতুন অনেকে যুক্ত হয়েছে। তবে এখনো মালিকানায় ডাক অধিদপ্তরের কোনো অংশ নেই। যদিও বলা হচ্ছে, এটি ডাক বিভাগের সেবা।
এমন পরিস্থিতিতে নগদ লিমিটেডের নামে ব্যাংকে ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব খোলার আগে ডাক বিভাগের অনুমোদন নিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি নগদের হিসাব খুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে। সম্প্রতি ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেবা চালু রাখতে নগদকে এ হিসাব খুলতেই হবে। আগে থার্ড ওয়েভের নামে এ হিসাব খোলা হয়েছিল।
ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব এমন এক ধরনের সংরক্ষিত হিসাব, যেখানে নগদ কর্তৃক ইস্যুকৃত ইলেকট্রনিক মুদ্রার বিপরীতে গ্রাহকের অর্থ জমা রাখা হয়। অথবা নগদ সেবা পরিচালনাকারী বা ওই হিসাব পরিচালনার জন্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রহীতার অর্থ জমা রাখা হয় এবং এ হিসাবে জমাকৃত অর্থ অনুমোদিত খাত ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় না।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা নগদের ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড এর নাম পরিবর্তন করে নগদ লিমিটেড করা বিষয়ে ব্যাংকগুলোর কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চিঠিতে বলা হয়েছে, নগদের ই-মানি কার্যক্রম পরিচালনায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া নগদ লিমিটেডের নামে ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব না খোলার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হলো।
ফলে ডাক বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারবে না নগদ।
গত মে মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রাস্ট ফান্ড ব্যবস্থাপনা শীর্ষক নীতিমালা জারি করে। বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নীতিমালাটির নাম দিয়েছে গাইডলাইনস ফর ট্রাস্ট ফান্ড ম্যানেজমেন্ট ইন পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সার্ভিসেস। ফলে গ্রাহকের হিসাবে জমা থাকা অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না মুঠোফোনে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহকের জমা টাকার পুরোটাই ব্যাংকে ট্রাস্ট ফান্ড হিসাবে জমা রাখতে হবে। এ ফান্ডে জমা টাকা কোনোভাবেই গ্রাহকের এমএফএস হিসাবে জমা থাকা টাকার চেয়ে কম হতে পারবে না। আর এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকের জমা টাকার বিপরীতে ই-মানি ইস্যু করে, তার পরিমাণও কোনোভাবেই জমা টাকার বেশি হতে পারবে না।
নতুন এ নীতিমালার ফলে বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকের হিসাবে জমা টাকা নিজেদের প্রয়োজনে আর ব্যবহার করতে পারছে না। এমএফএস প্রতিষ্ঠান, আইপে, ডি মানি, এসএসএল কমার্সের মতো আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানকে মেনে চলতে হচ্ছে। ইলেকট্রনিক প্ল্যাটফর্মে গ্রাহকের জমা টাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ ব্যবস্থা নেয়।
ব্যাংকের বাইরে এমন প্ল্যাটফর্মে দিন শেষে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা জমা থাকে গ্রাহকের। এর বিপরীতে কেউ কেউ গ্রাহকদের সুদ দিচ্ছে। আর প্রতিষ্ঠানগুলোর এই টাকা উচ্চ সুদে কেউ ব্যাংকে, আবার কেউ অন্যত্র রাখছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নীতিমালার ফলে গ্রাহকদের জমা টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করতে হবে। এ জন্য তফসিলি যেকোনো ব্যাংকে ট্রাস্ট কাম সেটেলমেন্ট হিসাব খুলতে হবে। এ হিসাবে গ্রাহকের জমা করা পুরো টাকা থাকতে হবে। এ টাকা থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুমোদিত একটি অংশ সরকারি বিল-বন্ড, স্থায়ী আমানতে রাখা যাবে। এই বিনিয়োগ থেকে যে সুদ আসবে, তা প্রতিষ্ঠানগুলো দৈনন্দিন খরচ, সরকারি মাশুল, গ্রাহক সচেতনতা খাতে ব্যবহার করতে পারবে। এ সুদ আয় থেকে গ্রাহকদেরও ভাগ দিতে হবে। ট্রাস্ট ফান্ডের বিপরীতে কেউ সরাসরি ঋণ বা ঋণসুবিধা নিতে পারবে না।
প্রতিষ্ঠানগুলো কোনোভাবেই এ টাকা দৈনন্দিন পরিচালনায় খরচ করতে পারবে না। কেউ এ নীতিমালা না মানলে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। গ্রাহকের টাকার সুরক্ষা নিশ্চিতে এ ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।