লঘু দণ্ড দিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআরের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যিনি এনবিআর সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।সম্প্রতি এনবিআর চেয়ারম্যান মো আবদুর রহমান খানের সই করা আদেশ থেকে জানা যায়, কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পরিত্যাগ করে সংস্কার আন্দোলনে অংশ নিতে রাজস্ব ভবনে আসতে বাধ্য করতে সংগঠকের ভূমিকা পালনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংস্থাটির অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকার মূল বেতন দুই ধাপ অবনমিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সাময়িক বরখাস্ত আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা এনবিআরের আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদের মহাসচিব ছিলেন। গত বছরের ৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।
এনবিআর আদেশ সূত্রে জানা, অতিরিক্ত কর কমিশনার সেহেলা সিদ্দিকা আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট, ঢাকায় কর্মরত থাকাকালে গত ২১ মে ২০২৫ তারিখে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একাধিক বার্তা দিয়ে এনবিআরের আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থল ত্যাগ করে নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। ওই বার্তায় ঢাকাস্থ কর্মকর্তাদের রাজস্ব ভবনে উপস্থিত থাকা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।এনবিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বার্তার মাধ্যমে তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাপ্তরিক দায়িত্ব পরিত্যাগে উদ্বুদ্ধ করেন এবং সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। এতে দেশের রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ মনে করে, তার এ ধরনের কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ৩০ এ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং একই বিধিমালার ৩২ বিধি অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল। পাশাপাশি এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) ধারায় বর্ণিত অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
অভিযোগের পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করে কৈফিয়ত তলব করা হয়। কৈফিয়তের জবাব দাখিল ও ব্যক্তিগত শুনানির আবেদনের পর গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে কর্তৃপক্ষ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করে।সেহেলা সিদ্দিকার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তার কর্মকাণ্ড সরকারি চাকরির শৃঙ্খলার পরিপন্থি এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সব নথি ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে কর্তৃপক্ষ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৪(২)(ঘ) বিধি অনুযায়ী শাস্তি হিসেবে তার বেতন গ্রেড দুই ধাপ অবনমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তার বর্তমান মূল বেতন ৭১ হাজার ২০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬৫ হাজার ৮২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই আদেশে তার সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করা হলো।

