চলতি বছরে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশেআগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ৬৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে হবে ঋণদাতাদের আশ্বস্ত করতে জামানত হিসেবে তাদের স্টক দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠীরাজস্ব খাতে সংস্কার এখন অপরিহার্য হয়ে গেছেবাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির পালে হাওয়া লেগেছে: টাইম ম্যাগাজিন
No icon

সম্পূরক শুল্ক ছাড়সহ নীতি সহায়তা চান সিমেন্ট শিল্প ব্যবসায়ীরা

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিসহ নানামুখী সমস্যার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক ক্ষতির মুখে আছে দেশের সিমেন্ট শিল্প খাত। এ অবস্থার মধ্যেই এ শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল লাইমস্টোনের ওপর সম্প্রতি আকস্মিক ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ ও ৩ শতাংশ অগ্রিম আয়করের সঙ্গে আরো ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হয়েছে। এমন কঠিন পরিস্থিতিতে এ শিল্পকে বাঁচাতে সম্পূরক শুল্ক ছাড়সহ সরকারের নীতি সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমএ)।সংগঠনটির নেতারা বলছেন, এই অতিরিক্ত শুল্কায়নের ফলে বর্তমানে আমদানিমূল্যের ওপর প্রায় ২৭ শতাংশের পরিবর্তে প্রায় ৬৭ শতাংশ শুল্ক ও কর পরিশোধ করে লাইমস্টোন ছাড় করাতে হচ্ছে।জরুরি ভিত্তিতে লাইমস্টোনের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার না করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত শুধু সিমেন্ট শিল্পই হবে না, এতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে।মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন বিসিএমএর সভাপতি ও ক্রাউন সিমেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আলমগীর কবির। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও মেট্রোসেম সিমেন্টের এমডি মো. শহিদুল্লাহ, প্রিমিয়ার সিমেন্টের এমডি মোহাম্মদ আমিরুল হক, বসুন্ধরা গ্রুপের সিমেন্ট সেক্টরের মহাব্যবস্থাপক (সেলস) মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া প্রমুখ।

আলমগীর কবির বলেন, নানামুখী সমস্যায় দেশের উদীয়মান খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম সিমেন্ট শিল্প বর্তমানে এক কঠিন সময় পার করছে। সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের মাধ্যমেই সিমেন্ট শিল্পের এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য প্রধান কাঁচামাল হলো ক্লিংকার, স্লাগ, লাইমস্টোন, ফ্লাইঅ্যাশ এবং জিপসাম। এই পাঁচ প্রকার কাঁচামালই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বিএসটিআই এবং ইউরোপিয়ান নর্মস অনুযায়ী সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত লাইমস্টোন ব্যবহারযোগ্য। লাইমস্টোনের আমদানিমূল্য অন্যান্য কাঁচামালের আমদানিমূল্যের তুলনায় সবচেয়ে কম। সেইভাবে লাইমস্টোন একটি সিমেন্ট উৎপাদনের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ী কাঁচামাল, তাই এই অতিরিক্ত শুল্কায়নের ফলে সিমেন্ট উৎপাদনকারীরা লাইমস্টোন আমদানি করতে নিরুৎসাহিত হবেন। যার ফলশ্রুতিতে বর্তমান ডলার সংকটের ওপর অতিরিক্ত চাপ বাড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নহে।

বিসিএমএ সভাপতি বলেন, আমদানি পর্যায় ছাড়াও বিক্রয় পর্যায়েও ২ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ধার্য করা আছে। অর্থাৎ একটি সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লোকসান করলেও, তাকে চূড়ান্ত কর দায় হিসেবে এই অগ্রিম আয়কর পরিশোধ করতে হবে, যা কোনো বিবেচনায়ই গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিকট সিমেন্ট শিল্পের জন্য অগ্রিম আয়করের কারণে দুরবস্থার বিষয়টি আমরা সিমেন্ট উৎপাদনকারীরা পূর্বে বহুবার তুলে ধরেছি। কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না, যার ফলশ্রুতিতে দেশের একটি উদীয়মান শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।