বাণিজ্য মেলায় সেরা ভ্যাট দাতার সম্মাননা পেয়েছে ১০ প্রতিষ্ঠানবন্দরে পণ্য আসার ৩ দিনের মধ্যে কাগজপত্র জমা না দিলে জরিমানাঢাকা ট্যাকসেস্ বার এসোসিয়েশন ২০২০-২০২১ এ ইকবাল সভাপতি ও মামুন সম্পাদক নির্বাচিতপুঁজিবাজারে আসছে রবি, শেয়ার ছাড়বে ৫২ কোটিকর বাড়ার পর মুঠোফোনের অবৈধ আমদানি বাড়ছে: বিএমপিআইএ
No icon

হঠাৎ আমদানিতে ভাটা

দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করে আমদানিতে ভাটা পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে আমদানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০১৭ সালের আগস্টের তুলনায় এবছরের আগস্টে আমদানি কমেছে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের শ্লথগতির কারণে দেশের পণ্য আমদানি-ব্যয় কমে গেছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের অনেকেই হয়তো উৎপাদনে যাচ্ছেন না। তিনি উল্লেখ করেন, বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে, এ কারণে ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধিও কমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ৩১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি। গত আগস্ট শেষে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমেছে ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশে। এত কম প্রবৃদ্ধি গত আড়াই বছরে দেখা যায়নি। অথচ এ বছরের শুরুতেও বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৯ শতাংশ।

টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বৃদ্ধিও আমদানিতে ভাটার পড়ার কারণ হিসাবে উল্লেখ করেন ড. জায়েদ বখত। তিনি বলেন, ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিতে বেশি অর্থ খরচ হয়। ফলে অনেকেই আমদানিতে অনুৎসাহিত হয়। তবে হঠাৎ আমদানি কমে যাওয়ার আরও দুটি কারণ উল্লেখ করেন এই গবেষক। তিনি বলেন, আগের খাদ্য আমদানি বেশি করার কারণে বর্তমানে খাদ্য আমদানি করতে হচ্ছে না। এছাড়া, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আগের মতো আমদানি করতে হচ্ছে না। ফলে সার্বিক বিচারে আমদানিতে ভাটা পড়েছে।

অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরে আমদানির নামে ওভার ইনভয়েসিং এর মাধ্যমে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে এমন আশঙ্কা করছিলেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৪১২ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে আমদানি বাবদ ব্যয় করতে হয়েছিল ৪৩৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আমদানি বাবদ ৪৭০ কোটি ডলার ব্যয় হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আমদানিজনিত চাপে দেশের ভেতরে বেড়েছে ডলারের চাহিদা। ফলে চাহিদার তুলনায় ডলারের জোগান কমে গেছে। এ কারণে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ঘটছে। এক বছরের ব্যবধানে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে চার টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত কয়েক মাস ধরে আমদানির জন্য এলসি (ঋণপত্র) খোলা ও নিষ্পত্তির পরিমাণ বাড়ছে।

গত অর্থবছরে (২০১৭-১৮) দেশে পাঁচ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৫ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

এদিকে, গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরের শুরুতেও পণ্য বাণিজ্যে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জুলাই ও অগাস্ট মাসের বাণিজ্য ঘাটতির যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, এই সময়ে বাংলাদেশের পণ্য বাণিজ্যে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর পুরো অর্থবছরে (জুলাই-জুন) বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৮২৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-অগাস্টে ৮৮২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে রফতানি থেকে আয় হয়েছে ৬৭১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ হিসাবে পণ্য বাণিজ্যে সার্বিক ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। তবে সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি কমে ৩৯ কোটি ডলার হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ৭৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার ছিল।

এ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ডলার। সাধারণভাবে কোনও দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে।