সঞ্চয়পত্রের নমিনি থাকলে কী, না থাকলে কীআমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বাধাগ্রস্ত রফতানি খাত৩২৯ রাজস্ব কর্মকর্তাকে বদলিঅনলাইনে রিটার্ন জমা বন্ধএ বছর কর মেলা হচ্ছে না
No icon

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন জমা বন্ধ

অনলাইনে বার্ষিক আয়কর বিবরণী জমা দেওয়ার সুযোগটি নেই। এখন আর কেউ চাইলেও অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অনলাইনে রিটার্ন জমার লিংকটি বন্ধ। কয়েক মাস ধরে অনেক করদাতা চেষ্টা করেও লিংকটিতে ঢুকতে পারেননি। ফলে অনলাইনে কর দিতে ইচ্ছুক করদাতারা বিপাকে পড়েছেন। চলতি রিটার্ন জমার মৌসুমের বাকি দুই মাসে (অক্টোবর ও নভেম্বর) এ লিংক আবার চালু হওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিয়েতনামের এফপিটি ইনফরমেশন সিস্টেম করপোরেশন নামের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান এটি তৈরি করেছিল। গত তিন বছর সচলও ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় এনবিআরের অনলাইনে রিটার্ন জমার এ সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

অথচ অনলাইনে রিটার্ন জমায় করদাতাদের আগ্রহ বাড়াতে এনবিআর কত কিছুই না করল। ৫১ কোটি টাকা খরচ করে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলো। আবার গত জুন মাসে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে প্রথমবার অনলাইনে রিটার্ন জমা দিলে ২ হাজার টাকা করছাড় প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে করছাড়ের সেই সুযোগ নিতে পারছেন না করদাতারা। বাজেটের উদ্যোগও মার খেল।

২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজের রিটার্ন জমা দিয়ে অনলাইন ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন। এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ওই বছর তেমন একটা রিটার্ন জমা পড়েনি। পরের তিন বছর (২০১৭-১৮, ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থবছর) করদাতারা অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন।

অনলাইনে রিটার্ন জমায় তেমন উৎসাহও ছিল না। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫ হাজারের মতো করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দিয়েছেন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৫ হাজার ৮৪৮ জন অনলাইনে রিটার্ন জমা দেন। সর্বশেষ গত অর্থবছরে ৭ হাজার ২০৭ জন এ সুযোগ নিয়েছেন। প্রতিবছর গড়ে ২২ থেকে ২৩ লাখ করদাতা রিটার্ন জমা দেন। অনলাইনে ১ শতাংশের কম রিটার্ন পড়েছে।

অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ায় আগ্রহ বাড়াতে চলতি অর্থবছরে ২ হাজার টাকার বিশেষ করছাড় দেওয়া হয়। এতে করদাতাদের মধ্যে উৎসাহ দেখা দেয়। কিন্তু সেই সুযোগ নিতে পারছেন না করদাতারা। এনবিআর নিজেই এ সুযোগ দিলেও ব্যবস্থাটি বন্ধ রেখেছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ইনকাম ট্যাক্স ইফাইলিং লিংকে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু লিংকটি খোলেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সদস্য হাফিজ আহমেদ মুর্শেদ বলেন, ভিয়েতনামের এফটিপি প্রতিষ্ঠানটি এ সফটওয়্যার তৈরি করেছিল। কিন্তু তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অনলাইনে রিটার্ন জমার লিংকটি বন্ধ রয়েছে। তাই করদাতারা রিটার্ন দিতে পারছেন না। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ভিয়েতনামের ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করার চিন্তাভাবনা চলছে। নতুন করে চুক্তি না হলে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ নেই।

কর বিভাগের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর জন্য ২০১১ সালে স্ট্রেনদেনিং গভর্ন্যান্স ম্যানেজমেন্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করে এনবিআর। এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ইন্টিগ্রেটেড ট্যাক্স (বাইট্যাক্স) সিস্টেম চালু করা হয়। এ প্রকল্পে খরচ হয় ৫৯ কোটি টাকা। ভিয়েতনামের এফটিপি এ সিস্টেম বা সফটওয়্যার তৈরির কাজ পায়। এ জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫১ কোটি টাকায় ভিয়েতনামের ওই কোম্পানিকে কাজটি দেওয়া হয়। সেই কাজের অংশ হিসেবে অনলাইনে রিটার্ন দেওয়ার সফটওয়্যার ও করদাতার তথ্যভান্ডার তৈরি করাও ছিল।

২০১৬ সালেই সফটওয়্যারটি চালু করা হয়। কিন্তু গত বছর প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর কাজ বুঝিয়ে দেয়নি ভিয়েতনামের প্রতিষ্ঠানটি। ফলে অনলাইনে রিটার্ন জমার সুযোগটি বন্ধ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, জনগণের টাকা খরচ হলো, কিন্তু করদাতারা সেবা পেল না। সফটওয়্যারটি যখন তৈরি করা হয়, তখন এর সঙ্গে কর কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা হয়নি।

ফলে এখন ভিয়েতনামের প্রতিষ্ঠান চলে গেলেও সফটওয়্যারটি সচল রাখতে পারছে না। তাঁর মতে, এনবিআরের একটি অটোমেশন প্রকল্পেও ফল আসেনি। এনবিআরের কর্মকর্তাদের মধ্যেই অটোমেশনে আগ্রহ কম। অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ থাকায় তাঁরা সনাতনী পদ্ধতিতেই থাকতে চান।