করপোরেট কর কমছে বাড়ছে সম্পদ করসংবাদপত্রের করপোরেট করহার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব সম্পাদকদেরআরজেএসসি ঘরে বসেই কোম্পানি নিবন্ধনের সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলা খারিজ হয়নি : বাংলাদেশ ব্যাংকরাশিয়ার ঋণের পরিমাণ ২৬ হাজার ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার প্রায়
No icon

শুল্ক-কর ছাড়াই পুনঃরপ্তানির সুবিধা দিল এনবিআর

ফেরত আসা পণ্য রপ্তানিকারকদের পুনঃরপ্তানির সুবিধা দিল এনবিআর । করোনার কারণে পোশাকের বহু রপ্তানি চালান ফেরত এসেছে। এসব পণ্য পুনঃরপ্তানির সময়সীমা ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করেছে এনবিআর। ফেরত আনা পণ্য এক বছরের মধ্যে পুনঃরপ্তানি হলে শুল্ক-কর দিতে হবে না। বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের সবারই রপ্তানি করা পণ্য ফেরত আসার অভিজ্ঞতা কমবেশি আছে। সাধারণত রপ্তানিকারকেরা জাহাজে করে নির্দিষ্ট গন্তব্যে বিদেশি ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠিয়ে থাকেন। কিন্তু বিদেশি ক্রেতারা নানা কারণে ওই পণ্যের চালান গ্রহণ না করে ফেরত পাঠিয়ে দেন। তখন বাংলাদেশের রপ্তানিকারক ওই মালামাল ফেরত নেন কিংবা অনেক সময় ফেরত না এনে মূল্য ছাড়ে বিক্রি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই করোনাকালে পণ্য ফেরত আসার পরিমাণ আরও বেড়েছে। সে জন্য রপ্তানিকারকদের লোকসান ঠেকাতে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন আদেশ জারি করেছে।
এত দিন ফেরত আসা পণ্য ছয় মাসের মধ্যে আবার রপ্তানি করলে কোনো শুল্ক-কর দিতে হতো না। রপ্তানিকারকদের, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের দাবির প্রেক্ষাপটে এই সময়সীমা ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে এক বছর করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআরের নতুন আদেশে বলা হয়েছে, এভাবে মালামাল ফেরত আনা হলে শুল্ক-কর দিতে হবে না। তবে শর্ত হলো, এক বছরের মধ্যে ওই মালামাল আবার রপ্তানি করতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে যত পণ্য রপ্তানি হয়, এর ৮০ শতাংশের বেশি হলো পোশাক। এ দেশের রপ্তানি খাতটি মূলত পোশাকশিল্পনির্ভর। এ ছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটপণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি হয়। করোনার শুরুতে গত বছরের এপ্রিল ও মে মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি থমকে গিয়েছিল। সময়মতো যেমন পোশাকের চালান জাহাজীকরণ করা যায়নি, তেমনি করোনা সংক্রমণের যুক্তি দেখিয়ে অনেক ক্রেতা ক্রয়াদেশ বাতিল করেছে। পণ্য গন্তব্যে পৌঁছানোর পরও অনেক চালান ক্রেতা নেয়নি। এর ফলে বিপুল পরিমাণ পোশাক দেশে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। সাধারণত মোট পোশাক রপ্তানির কমবেশি ১ শতাংশ ফেরত আসে। করোনার কারণে অবশ্য তা বেড়েছে।
এমন প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ কিছুদিন আগে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের চিঠি লিখে পুনঃরপ্তানি করার সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানায়। সংগঠনটির সেই অনুরোধে এনবিআর সাড়া দিয়েছে।

বিজিএমইএর সহসভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম বলেন, এত দিন ছয় মাসের মধ্যে পুনঃরপ্তানি করতে হতো। কিন্তু করোনার সময়ে যেসব পোশাক ফেরত এসেছে, এসব পোশাকের বিদেশি ক্রেতা পেতে সময় লাগছে। অনেক সময় ক্রেতাই মিলছে না। তাই ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর সময় চেয়েছিলাম। এনবিআর সেই আবেদনে সাড়া দিল। ফলে রপ্তানিকারকদের দুশ্চিন্তা কিছুটা কমল।

এনবিআর বেশ কিছু শর্ত দিয়ে পুনঃরপ্তানির নতুন আদেশ জারি করেছে। যেমন ফেরত আসা পণ্যের চালানের শতভাগ কায়িক পরীক্ষা করতে হবে। এর মাধ্যমে পণ্যের বর্ণনা, ওজন, সংখ্যা বা পরিমাণ এসব নিশ্চিত হয়ে পণ্যের খালাস ও পুনঃরপ্তানি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। পুরো কার্যক্রমটি সম্পন্ন করবেন ন্যূনতম সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার কর্মকর্তা। পুনঃরপ্তানির আগে সংশ্লিষ্ট লিয়েন ব্যাংক এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তিপত্র দাখিল করতে হবে।

সবচেয়ে বড় শর্তটি হলো ফেরত আসা পণ্য খালাসের এক বছরের মধ্যে রপ্তানি করতে হবে। বন্ড লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-করের সমপরিমাণ ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে। আর বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এক বছরের মধ্যে পুনঃরপ্তানি করতে না পারলে সমপরিমাণ শুল্ক কর দিতে হবে। রপ্তানিকারকেরা অঙ্গীকারনামার শর্ত পূরণ করতে না পারলে সে ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে শুল্ক কর্মকর্তাদের। এই বিষয়ে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে রপ্তানিকারককে।