
ই-টিআইএন থাকা সত্ত্বেও যেসব করদাতা আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন না, তাদের রিটার্ন দাখিলের জন্য নোটিশ করতে কর কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। একই সঙ্গে তাদের আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য সরেজমিন নিয়ে আইন অনুযায়ী আয়কর আরোপ করে তা আদায়ের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই মাসের রাজস্ব আহরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় চেয়ারম্যান এসব নির্দেশনা দেন। শুক্রবার এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।সভায় রাজস্ব আদায় বাড়াতে প্রতিটি কর অঞ্চলকে গোয়েন্দা কার্যক্রম বাড়ানোর মাধ্যমে কর ফাঁকি উদ্ঘাটন করার নির্দেশনা দিয়ে এনবিআর চেয়ার বলেন, দাখিল করা আয়কর রিটার্নগুলোতে আয়কর আইনের বিধান অনুসারে কর আদায় করতে হবে। সভায় কর কমিশনারদের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা এনবিআরের সব মনিটরিং সদস্যকে প্রতি সপ্তাহে একজন কমিশনারের সঙ্গে সভা করে নন-ফাইলারদের বিরুদ্ধে গৃহীত কার্যক্রম, কর ফাঁকি উদ্ঘাটন কার্যক্রম, ২০২৪-২৫ কর বছরের রিটার্ন প্রসেসিং কার্যক্রম, চলমান অডিট মামলা নিষ্পত্তি কার্যক্রম তাদারকি করে তা চেয়ারম্যানকে অবহিত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো এবং অনলাইন আয়কর রিটার্ন দাখিলের মতো আগামী এক মাসের মধ্যে বন্ডের সব কার্যক্রম বাধ্যতামূলক অনলাইনে সম্পাদন করার নির্দেশ দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একইভাবে বন্ড সুবিধার আওতায় আনা কাঁচামাল ও পণ্য বাজারে বিক্রয়ের প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট আমদানিকারকের বন্ড লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। এর সঙ্গে রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।সভায় কাস্টম হাউসগুলোতে নিলাম কার্যক্রম জোরদার করে কনটেইনার জট কমাতে নির্দেশ দেওয়া হয়। যেসব কনটেইনার অনেক দিন ধরে বন্দরে পড়ে আছে, সেগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দ্রুত নিলামে বিক্রয় করার সিদ্ধান্ত হয়।
ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা নিশ্চিত করে আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়ে কাস্টমস কমিশনারদের উদ্দেশে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সন্দেহের বশবর্তী হয়ে আমদানি বা রপ্তানিকারকের বিন লক না করে অ্যাসাইকুডা সিস্টেমে রক্ষিত অতীত রেকর্ডের ভিত্তিতে রাজস্ব ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। অহেতুক বিন লক করে সৎ ও কমপ্লায়েন্ট আমদানি-রপ্তানিকারকদের ক্ষতি করা যাবে না। প্রতিটি কাস্টম হাউস এবং গোয়েন্দা দপ্তরকে আমদানি-রপ্তানিকারকদের বিন কী কারণে লক করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে কী পরিমাণ রাজস্ব আদায় হয়েছে, তার ব্যাখ্যা দিতে হবে।ভ্যাট কমিশনারদের উদ্দেশে আব্দুর রহমান খান বলেন, ভ্যাট আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হবে। তবে আদায়ের প্রবৃদ্ধির ধারণা থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। যারা নিয়মকানুন মেনে ভ্যাট দিচ্ছেন, তাদের বাড়তি চাপ দেওয়া সমীচীন নয়। যারা মোটেও ভ্যাট দেন না, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। যাদের ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, তাদের নিবন্ধন নিশ্চিত করতে হবে।