করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো উচিত ছিলকর-ভ্যাটের চাপ আরও বাড়বেবাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩০ পণ্যে কমছে করভোগ্য পণ্যে শুল্ক কমানোর পরামর্শনতুন করের বোঝা না চাপানোর অনুরোধ ডিএসই’র
No icon

মোবাইল ফোন উৎপাদনে বসছে ভ্যাট, বাড়ছে সংযোজনে

স্থানীয় শিল্পের মধ্যে যেসব শিল্পের সক্ষমতা বেড়েছে, সেসব ক্ষেত্রে দেওয়া কর সুবিধা কমানোর অংশ হিসেবে মোবাইল ফোন উৎপাদন পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট বসানোর পরিকল্পনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন সংযোজনে (অ্যাসেমব্লিং) ভ্যাটের হার বাড়িয়ে ৫ থেকে ১০ শতাংশ করা হতে পারে আসন্ন বাজেটে।বর্তমানে মোবাইল হ্যান্ডসেটের সংযোজন পর্যায়ে ৩ থেকে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য রয়েছে। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি বা বাণিজ্যিক পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়। এর জেরে খুচরা পর্যায়ে মোবাইলের দাম বেড়ে যায়। নতুন করে উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে।ফেয়ার গ্রুপের (বাংলাদেশে স্যামসাংয়ের ডিস্ট্রিবিউটর ও উৎপাদক) চিফ মার্কেটিং অফিসার (সিএমও) মোহাম্মদ মেসবাহ উদ্দিন সমকালকে বলেন, কাঁচামালের দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলারের অবমূল্যায়নের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেই গত জুলাই থেকে বাংলাদেশ সরকার মোবাইল ফোনের ওপর ব্যবসায়িক পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট বসিয়েছে। এসব কারণে দেশে উৎপাদিত বা সংযোজন করা মোবাইল হ্যান্ডসেটের দাম অনেক বেড়েছে। তাই মোবাইল বিক্রি কমে গেছে। একই সঙ্গে বাজারে প্রচুর অবৈধ হ্যান্ডসেট ঢুকেছে।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ের মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি মোবাইল বিক্রি কমার অন্যতম কারণ। এ অবস্থায় ভ্যাট বাড়ানো হলে মোবাইলের দাম আরও বেড়ে যাবে। এতে করে মোবাইল বিক্রি কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে অবৈধ মোবাইল দেশে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।গত চার বছর ধরে স্থানীয় মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক ও সংযোজনকারীদের দ্রুত বিকাশের জন্য কর সুবিধা দিয়ে আসছে সরকার। যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের কারখানায় প্রিন্ট করা সার্কিট বোর্ড, চার্জার, ব্যাটারি, হাউসিং ও কেসিংয়ের মতো যন্ত্রাংশ উৎপাদনের ব্যবস্থা করেছে, ২০১৯ সালের এক আদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তাদের ভ্যাট ছাড় দিয়েছে। স্থানীয় মোবাইল হ্যান্ডসেটে বর্তমানে সব মিলিয়ে ১৩ থেকে ১৭ শতাংশ এবং আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে ৫৭ শতাংশ কর দিতে হয়।আগামী বাজেট প্রণয়নের আগে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে রাজস্ব বোর্ডের প্রাক-বাজেট আলোচনায় হ্যান্ডসেটসহ আরও কিছু খাতকে দেওয়া ভ্যাট সুবিধা যে কমিয়ে দেওয়া হবে, তার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে। এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানোর জন্য স্থানীয় ও বৈশ্বিক চাপ থাকায় ইতোমধ্যে সক্ষমতা অর্জনকারী খাতগুলোর সুযোগ-সুবিধা কমানো উচিত।

চলতি বছরের শুরুতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে, যার শর্ত হিসেবে জিডিপিতে করের অবদান আগামী অর্থবছরে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। এ জন্য বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব বাড়ানোর উপায় খুঁজছে এনবিআর।২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ আমদানিনির্ভর ছিল। পরে কিছু উদ্যোক্তা দেশে হ্যান্ডসেট সংযোজন শুরু করে। ২০১৯ সাল এবং এর পরে এ খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ আসে। দেশে বর্তমান স্যামসাং, অপ্পো, ভিভো, টেকনো, সিম্ফনি, ওয়ালটন, লাভা, শাওমি, নকিয়া, রিয়েলমিসহ ১৪টি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও সংযোজন কারখানা রয়েছে।স্থানীয় কোম্পানিগুলো চাহিদার ৯৭ শতাংশই জোগান দিচ্ছে। ২০২১-২২ সালে এ খাতে অনেক বিনিয়োগ এসেছে উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, নতুন করে ভ্যাট আরোপ করলে এসব বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়েছে (স্মার্ট ও ফিচার ফোন সেটসহ) প্রায় সাড়ে ৩ কোটি। দেশে ১৫ হাজার কোটি টাকার স্মার্টফোনের বাজার রয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ রয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।