এনআইডি যাচাইসহ বিডার ওএসএসে যুক্ত হচ্ছে ৩ সেবাস্বয়ংক্রিয় চালানের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু এ মাসেইভেস্তে যেতে চলেছে অনলাইনে রিটার্ন জমাএকক ব্যক্তি কোম্পানি খোলার সুযোগ রেখে আইন অনুমোদনরাজস্ব ঘাটতি ৮২ হাজার কোটি টাকা: এনবিআরের চূড়ান্ত হিসাব
No icon

করোনায় শিল্প-বাণিজ্যে ধস: রাজস্ব আয় কাটছাঁট ২০,২৯৭ কোটি টাকা

চলমান করোনাভাইরাসে সৃষ্ট অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব খাতে। ফলে চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা থেকে ২০ হাজার ২৯৭ কোটি টাকা কাটছাঁট করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এতে সংশোধিত আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর রাজস্ব ৩,১৩,০৭০ কোটি টাকা এবং এনবিআরবহির্ভূত ৪৪,৪৪৬ কোটি টাকা। বছরের শুরুতে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১১ কোটি টাকা। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। সূত্র আরও জানায়, করোনার কারণে সরকারের ঘোষিত সাপ্তাহিক ছুটিসহ সাধারণ ছুটির আজ (শুক্রবার) ৫১তম দিন। এরই মধ্যে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য।

উৎপাদন না থাকায় বন্ধ আছে বেচাকেনা। স্থবির আমদানি-রফতানি বাণিজ্যও। বন্দরে পণ্য খালাস হচ্ছে সীমিত আকারে। ফলে শুল্ক আদায়ের খাতা অনেকটা খালি। শুধু তাই নয়, ছোট-বড় ৩০ লাখ পাইকারি ও খুচরা দোকান, হোটেল ও বিপণিবিতান বন্ধ।

এতে কাঙ্ক্ষিত হারে আদায় হচ্ছে না ভ্যাটও। আর কোম্পানির আয় হ্রাস পাওয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কর্পোরেটসহ ব্যক্তি কর সংগ্রহেও। সব মিলিয়ে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কাটছাঁট করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই সরকারের।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতিতে মন্দাভাবের কারণে বছর শেষে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হবে না। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও আমদানি-রফতানি কমেছে। অর্থবছর শেষে আরও কম হতে পারে। হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন এবং পর্যটন খাতের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশ্বের অর্থনীতি করোনার প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়।

জানতে চাইলে সাবেক সিনিয়র অর্থ সচিব মাহবুব আহমেদ জানান, করোনাভাইরাসের প্রভাবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থবির হয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি বাণিজ্য কমেছে। ফলে বছরের শুরুতে মোট রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সেটি অর্জন হবে না।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১১ কোটি টাকার মোট রাজস্ব আয়ের মধ্যে শুধু এনবিআর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বছরের শুরুতে নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০৪ কোটি টাকা এবং এনবিআরবহির্ভূত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয় ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এখন তা অর্জন করা সম্ভব নয়। ফলে নতুন করে এনবিআর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা কাটছাঁটের পর নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ১৩ হাজার ৭০ কোটি টাকা।

এ ক্ষেত্রে কমানো হয়েছে ২৭ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। তবে এনবিআরবহির্ভূত রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে ৬ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। চলমান করোনায় অর্থনীতির ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকার এরই মধ্যে এক লাখ ১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছে।

এ ছাড়া চার কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দেয়া, অনানুষ্ঠানিক খাতে ৭৫০ কোটি টাকা, এসএমই খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা, বড় শিল্প খাতে ৩০ হাজার কোটি টাকা, রফতানি খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, কৃষি খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকা উল্লেখযোগ্য।

এদিকে এনবিআর সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে ভ্যাটে এক লাখ ৮০০ কোটি টাকা, আয়করে এক লাখ ৬০০ কোটি টাকা এবং শুল্ক খাতে ৮৫ হাজার ২২১ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। অথচ মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে এনবিআর দুই লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আদায় করতে পেরেছে মাত্র এক লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ ইতোমধ্যে ঘাটতি হয়েছে ৫৬ হাজার কোটি টাকা।

চট্টগ্রাম বন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, করোনার প্রভাবে আমদানি অনেক কমে গেছে। আবার কিছু কিছু জরুরি পণ্য আমদানি হয়, তাতে রাজস্ব ছাড় দেয়া আছে। আর শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি হলেও চাহিদা না থাকায় আমদানিকারকরা তা খালাস করছেন না। ফলে বন্দরে কনটেইনার জট প্রকট হয়েছে। পণ্য খালাস না হওয়ায় রাজস্বও জমা হচ্ছে না।

বেনাপোল স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, মূলত ভারত থেকে আমদানি হয় এ বন্দর দিয়ে। গেল কয়েক মাস ধরে আমদানি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় রাজস্ব একেবারে শূন্যের কোঠায়।