এনবিআর লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়েব্যবসায়ীদের কাছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব চাইল এনবিআরজাল টিআইএন ব্যবহার: নিবন্ধন পৌনে ৫ লাখ গাড়ি অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে ৮৩৪২ কোটি টাকা২৯ টাকা ভ্যাট দিয়ে জিতলেন ১০ হাজার টাকা
No icon

কোন সঞ্চয়পত্রটি কিনবেন

সঞ্চয় বেশি করেন মধ্যবিত্তরা। নিম্নবিত্তদের আয় কম, দিন শেষে হাতে অর্থ থাকে না। উচ্চবিত্তদের ব্যয় বেশি, আয়ও বেশি। ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা কম। চিন্তা কেবল মধ্যবিত্তদের মধ্যেই। আর তাই তাঁরা সঞ্চয়ের চেষ্টা করেন।কিন্তু কোথায় সঞ্চয় করবেন। এখন পর্যন্ত দেশে সঞ্চয়ের জন্য ভালো উপকরণ হচ্ছে সঞ্চয়পত্র। যদিও আগের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের সংখ্যা কমেছে, সুদ বা মুনাফাও কমানো হয়েছে। তারপরও নিরাপদ সঞ্চয়ের জায়গা এখনো সঞ্চয়পত্র। দেশে এখন চার ধরনের সঞ্চয়পত্র আছে। এই চারটির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে আকর্ষণীয় বা কে সবচেয়ে মুনাফা দেয় এই প্রশ্নও করেন অনেকে।

কোন সঞ্চয়পত্রটি কিনবেন

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্র বর্তমানে এ চার ধরনের সঞ্চয়পত্রই চালু রয়েছে দেশে। কিন্তু সবগুলো সমান হারে সুদ দেয় না। সবচেয়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যায় পেনশনার সঞ্চয়পত্র থেকে। সুদের হার মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। সুতরাং বলাই যায় সেরা সঞ্চয়পত্র এটি। তবে সমস্যা হচ্ছে এই সঞ্চয়পত্র কিনতে হলে অবসরপ্রাপ্ত হতে হবে।

পরিবার সঞ্চয়পত্রেও কিন্তু মুনাফা মোটেই কম নয়। পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে এই সঞ্চয়পত্রে মুনাফা পাওয়া যায় ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ হারে। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র তিন বছর মেয়াদি। এই সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে সুদের হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ।

নামের মধ্যেই রয়েছে পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাঁচ বছর মেয়াদের। পরিবার সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নামের মধ্যে মেয়াদ উল্লেখ না থাকলেও এ দুটোও পাঁচ বছর মেয়াদি। আর তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র তিন বছর মেয়াদি। পরিবার সঞ্চয়পত্রের সুদ মাসিক ভিত্তিতে এবং তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে তোলা যায়।

আগে ভাঙালে সুদ কম

মেয়াদভিত্তিক সঞ্চয়পত্র কেনা হলেও মেয়াদের আগেও এগুলো ভাঙানো যায়। যেমন পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করলে প্রথম বছর শেষে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ, তৃতীয় বছর শেষে ১০ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং চতুর্থ বছর শেষে ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যায়।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র মেয়াদের আগে নগদায়ন করলে সুদের হার কম হয়। এক বছরের আগে নগদায়ন করলে কোনো সুদই পাওয়া যায় না। এই সঞ্চয়পত্রে প্রথম বছর শেষে নগদায়ন করলে ১০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছর শেষে নগদায়ন করলে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যায়।

পরিবার সঞ্চয়পত্র মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করলে প্রথম বছর শেষে ৯ দশমিক ৫ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ১০ শতাংশ, তৃতীয় বছর শেষে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং চতুর্থ বছর শেষে ১১ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যায়।

পেনশনার সঞ্চয়পত্র মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন করলে প্রথম বছর শেষে ৯ দশমিক ৭ শতাংশ, দ্বিতীয় বছর শেষে ১০ দশমিক ১৫ শতাংশ, তৃতীয় বছর শেষে ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ ও চতুর্থ বছর শেষে ১১ দশমিক ২০ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যায়।

কারা কোনটা কিনতে পারেন

সবচেয়ে বেশি সুদ দেওয়া পেনশনার সঞ্চয়পত্র সবাই কিনতে পারেন না। অবসরভোগী সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারী, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্য এবং মৃত চাকরিজীবীর পারিবারিক পেনশন সুবিধাভোগী স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানেরাই পেনশনার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।

১৮ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের যেকোনো বাংলাদেশি নারী, যেকোনো বাংলাদেশি শারীরিক প্রতিবন্ধী নারী ও পুরুষ এবং ৬৫ বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সী বাংলাদেশি নারী ও পুরুষেরা শুধু একক নামে কিনতে পারেন পরিবার সঞ্চয়পত্র।

পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র সবার জন্য উন্মুক্ত। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যেকোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ একক বা যুগ্ম নামে এ দুই ধরনের সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।

আগ্রহ আবার বাড়ছে

বিদায়ী ২০১৯-২০ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র খাতে বিনিয়োগ কমে এক বছরের ব্যবধানে এক-তৃতীয়াংশে নেমেছিল। আগের ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৪৯ হাজার কোটি টাকা থেকে নেমে হয়েছিল ১৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক অর্থবছরেই কমেছিল প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা।

২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে কড়াকড়ি আরোপ করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। এর মধ্যে অন্যতম কারণ ছিল অনলাইন পদ্ধতিতে কেনা, ব্যাংক হিসাব থাকা, এক লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকা ইত্যাদি শর্ত আরোপ করা হয়।

মাঝখানে আসে করোনাভাইরাস। ফলে নতুন বিনিয়োগ তো দূরের কথা, অনেক বিনিয়োগকারীকে বরং সঞ্চয় ভেঙেও খেতে হয়। তবে খারাপ পরিস্থিতি কেটে গেছে প্রায়। বিনিয়োগকারীরা সঞ্চয়পত্রে ফিরতে শুরু করেছেন। অনলাইনে কিনতেও এরই মধ্যে অভ্যস্ত হয়েছেন তাঁরা।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার ৬৪২ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে সরকার, যা আগের পুরো অর্থবছরের পুরো সময়ের চেয়েও ১ হাজার ২১৪ কোটি টাকা বেশি। আগের অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে ৫ হাজার ৫২১ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছিল সরকার। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করে সরকার।