চলতি বছরে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশেআগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ৬৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে হবে ঋণদাতাদের আশ্বস্ত করতে জামানত হিসেবে তাদের স্টক দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠীরাজস্ব খাতে সংস্কার এখন অপরিহার্য হয়ে গেছেবাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির পালে হাওয়া লেগেছে: টাইম ম্যাগাজিন
No icon

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৬৫ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ধার করেছে বাংলাদেশ সরকার

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার নিল ৬৬ হাজার কোটি টাকা । গত ৬ মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৬৫ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা ধার করেছে বাংলাদেশ সরকার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নেওয়া এ ঋণের টাকা থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ৩৩ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকার ঋণ শোধ করেছে সরকার।

এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ বাড়লেও কমেছে বেসরকারি ব্যাংকের ঋণ। এতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২২) ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট বা প্রকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা।

বাজারে টাকার প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ শোধের এ কৌশল নেওয়া হয়েছে। কারণ, ২০২২ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে ১ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা জমা দিয়ে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে বিভিন্ন ব্যাংক। এতে ব্যাংকগুলোতে তারল্যসংকট তৈরি হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণ শোধ করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী জুন পর্যন্ত আরও প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবে সরকার। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন সময়ে সরকার ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়েছিল ৪৮ হাজার ৯৪২ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক যে টাকা বাজারে ছাড়ে, তার পুরোটাই রিজার্ভ মানি বা নতুন টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারকে ঋণ দেয়, ব্যাংকগুলোকে ধার ও পুনঃ অর্থায়ন-সুবিধা দিয়ে থাকে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা বাইরে ছাড়ার অর্থ উচ্চমানের টাকা (হাই পাওয়ার) বাজারে ছাড়া। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ বেড়ে গেলে একদিকে বাজারে মুদ্রা সরবরাহ বেড়ে যায়, তাতে চাপ তৈরি হয় মূল্যস্ফীতির।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। ব্যবসায় মন্দার কথা বলে ব্যবসায়ীদের অনেকেই কম কর দিচ্ছেন। সরকারের ব্যয়ও খুব বেশি কমছে না। একরকম বাধ্য হয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। কারণ, সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে গেছে। নতুন করে কেনার চেয়ে সঞ্চয়পত্র ভাঙছেন বেশি গ্রাহকেরা। জানা যায়, গত ডিসেম্বর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। ফলে ২০২২ সালের পুরো সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা। আর গত বছর শেষে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ কমে হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৩ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণের বড় অংশ দিয়েছে ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে। অবশ্য গত ৬ মাসে ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ অনেকটাই কমিয়ে এনেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কারণ, সরকার ঋণ শোধ করে দিচ্ছে। এদিকে তারল্যসংকটের কারণে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহারও বাড়ছে।