১২ থেকে ১৫ এপ্রিল খোলা থাকবে ভ্যাট অফিসভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়ানোর দাবি ব্যবসায়ীদের২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশআগামী বাজেটে কর্পোরেট কর এক বছরের জন্য বিশেষ ছাড়ের পরামর্শ
No icon

কর বাড়ার পর মুঠোফোনের অবৈধ আমদানি বাড়ছে: বিএমপিআইএ

দেশে মুঠোফোনের অবৈধ আমদানি বেড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিআইএ)। তারা বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সরকার স্মার্টফোন আমদানির ওপর মোট কর হার ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৫৭ শতাংশ করেছে। এ কারণে মুঠোফোনের দাম বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বিএমপিআইএ আরও বলেছে, দাম বাড়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় ২০১৯ সালে অবৈধ মুঠোফোনের বাজার আরও বড় হয়েছে। তাদের দাবি, দেশের মুঠোফোন বাজারের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ এখন অবৈধ পথে আমদানি হওয়া ব্যবসার দখলে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য হতে পারে চার হাজার কোটি টাকা। এতে সরকার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গতকাল মঙ্গলবার অবৈধ মুঠোফোন ঠেকানোর প্রযুক্তি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার বা এনইআইআর চালু করতে দরপত্র আহ্বান করে। পরদিন অর্থাৎ আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে বিএমপিআইএ সরকারের রাজস্ব হারানোর চিত্র তুলে ধরে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অবৈধ পথে আসা মুঠোফোনের হুমকিতে বন্ধ হয়ে যেতে পারে দেশীয় উৎপাদন। বাংলাদেশ সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে বাংলাদেশেই মুঠোফোন কারখানা করার জন্য মুঠোফোন প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করে। সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে প্রায় সব প্রধান মুঠোফোন কোম্পানি দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের কারখানা গড়ে তুলেছে। এতে একদিকে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমেছে, অন্যদিকে দেশে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে।

বিএমপিআইএর দাবি, ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ৯টি প্রতিষ্ঠান মুঠোফোন উৎপাদনের উদ্দেশ্য কারখানা গড়ে তুলেছে এবং আরও কিছু প্রতিষ্ঠান কারখানা স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। দেশের চাহিদার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ভাগ মুঠোফোন এখন দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে।

অবৈধ পথে আসা মুঠোফোনের কারণে ক্রেতারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও দাবি করে বিএমপিআইএ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নন-ওয়ারেন্টি পণ্য কিনে তাঁরা প্রতারিত হচ্ছেন। তাঁরা অনুমোদিত মেরামত সেবা পাচ্ছে না। তাই নষ্ট ফোন সারাতে গুনতে হচ্ছে অনেক টাকা।

বিএমপিআইএর দাবি, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার নামের প্রযুক্তিটির মাধ্যমে বাজারে থাকা আসল বা নকল হ্যান্ডসেটের পরীক্ষা সহজেই করা যাবে। হ্যান্ডসেট ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি অচিরেই এ প্রযুক্তি গ্রহণ করতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বিএমপিআইএকে জানিয়েছে, জানুয়ারির শুরুর দিকে কমিশন এ বিষয়ক একটি প্রস্তাব অনুমোদনের পর সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। সরকারের অনুমোদন পেলে মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে এ প্রযুক্তির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ শেষে এনইআইআর স্থাপনের কাজ শেষ করা যাবে।

এনইআইআর স্থাপনের কাজ শেষ হলে বিটিআরসি অবৈধ পথে আসা নকল ও অবৈধ হ্যান্ডসেট তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধের ব্যবস্থা করতে পারবে।