চলতি বছরে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশেআগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ৬৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে হবে ঋণদাতাদের আশ্বস্ত করতে জামানত হিসেবে তাদের স্টক দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে আদানি গোষ্ঠীরাজস্ব খাতে সংস্কার এখন অপরিহার্য হয়ে গেছেবাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির পালে হাওয়া লেগেছে: টাইম ম্যাগাজিন
No icon

চট্টগ্রামে এক লাফে গৃহকর বাড়ল ৩২৫ শতাংশ

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ের দরজিপাড়ায় একতলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকেন বিধবা লায়লা বেগম। ভাইদের দেওয়া আর্থিক সহায়তায় মেটান সংসার খরচ। তার এই ফ্ল্যাটের জন্য ভাড়ার ভিত্তিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গৃহকর নির্ধারণ করেছে ২০ হাজার টাকা। অথচ আগে ফ্ল্যাটের আয়তন ও স্থান অনুযায়ী তিনি গৃহকর দিতেন মাত্র ২ হাজার ৪০ টাকা। নতুন নিয়মে তার গৃহকর বেড়েছে ৯০০ শতাংশ। চলতি অর্থবছর থেকে ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর আদায় শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। এতে গৃহকর ৩০০ থেকে ১ হাজার শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তা নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ।আগের নিয়মে গৃহকর আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করে আসছে চট্টগ্রাম করদাতা সুরক্ষা পরিষদ। অন্যদিকে ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর আদায়ে অনড় মেয়র। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের জনজীবনে অস্থিরতা বৃদ্ধি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা করেছে সরকারের বিশেষ গোয়েন্দা শাখা। এ বিষয়ে একটি যৌক্তিক সমাধানে পৌঁছতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু তাতে ভ্রুক্ষেপ না করে নতুন নিয়মে গৃহকর আদায় অব্যাহত রেখেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।

 বাড়ি ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর নির্ধারণের আইন এরশাদ সরকারের আমলে প্রণীত। এই আইন অনুযায়ী, দেশের ১১টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে শুধু চট্টগ্রাম ছাড়া কোথাও বাড়ি ভাড়ার ভিত্তিতে গৃহকর আদায় করা হয় না। এদিকে বর্ধিত গৃহকর সহনীয় পর্যায়ে আনতে আপিল বোর্ড গঠন করেছে সিটি করপোরেশন। কিন্তু এই আপিলেও ঘুষের মাধ্যমে গৃহকর কমানো হচ্ছে বলে পুলিশের গোপন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।প্রতিবেদনে আটটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে প্রতি বর্গফুটের জন্য সর্বনিম্ন দেড় টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২ টাকা পর্যন্ত গৃহকর আদায় করে আসছিল সিটি করপোরেশন। বিভিন্ন এলাকার জমি ও ভবনের মূল্যকে গুরুত্ব দিয়ে একেক ধরনের গৃহকর হার নির্ধারিত ছিল। সেই হার অনুযায়ী নগরের নাসিরাবাদের ১০ হাজার বর্গফুট আয়তনের একটি ছয় তলা ভবনের গৃহকর ছিল বছরে ৬০ হাজার টাকা। নতুন নিয়মে যা বর্তমানে ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে। সে হিসাবে গৃহকর এক লাফে ৩২৫ শতাংশ বেড়েছে বলে পুলিশের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়।