নতুন রপ্তানি নীতির খসড়া অনুমোদনপ্রণোদনার অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দুই কোটি টাকা খরচ করে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু : এনবিআরচলতি অর্থবছরে কালোটাকা সাদা করায় তেমন সাড়া মিলছে না ৬৩% টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেননি এ
No icon

প্রতিবন্ধীদের নিয়োগে ৫% কর ছাড় অব্যাহত

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য কাজের সুযোগ তৈরি করতে অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি তাদের নিয়োগদাতাদের ৫ শতাংশ কর ছাড়ের সুযোগ অব্যাহত রাখছে সরকার। এই পরিমাণ কর ছাড় মিলবে একটি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত মোট কর্মীদের ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধীকে নিয়োগ দেওয়া হলে। এমন নিয়োগে কর ছাড়ের পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের চলাচলের পথ তৈরির ব্যর্থতায় ৫ শতাংশ অতিরিক্ত করারোপের প্রস্তাবও করা হয়েছে ২০২১-২২ অর্থবছরের অর্থ আইনে। অন্যদিকে কোনো প্রতিষ্ঠান মোট জনবলের ১০ শতাংশ বা ১০০ জনের বেশি তৃতীয় লিঙ্গের কর্মী নিয়োগ দিলে ১০ শতাংশ কর ছাড় পাবে বলে এবারের বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে সামাজিক এবং অর্থনীতির মূলধারায় আনতে সরকারের যে চেষ্টা, তা ফলপ্রসূ করতেই এই পদক্ষেপ বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

প্রতিবন্ধীদের নিয়োগ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত অর্থ আইনে বলা হয়, কোনো করদাতা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট জনবলের অন্যূন ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিয়োগ করিলে উক্ত করদাতাকে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ কর রেয়াত প্রদান করা হইবে।

করারোপের বিষয়ে আইনে বলা হয়, কোনো স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা এনজিওতে সেবাগ্রহণকারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিগণের সেবাস্থলে গম্যতার ক্ষেত্রে এবং সেবা প্রদানে দেশে বলবৎ আইনি বিধান অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা না রাখিলে ২০২১ সালের ১ জুলাই তারিখে আরদ্ধ কর বৎসর হইতে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করে ৫ শতাংশ অতিরিক্ত কর ধার্য্য করা হইবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী প্রথম এই প্রস্তাব করে তা ২০২০-২১ করবছর থেকে কার্যকর করার কথা বলেছিলেন, পরে তা অনুমোদনও করে সংসদ।

বাজেট ব্যবস্থায় নতুন এই সরকারি পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসাবে বর্ণনা করেছেন জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের সভাপতি সাইদুল হক। একইসঙ্গে প্রতিবন্ধীদের জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ আশা করলেও তা বাজেটে ঘোষণা না থাকায় আক্ষেপের কথা বলেন তিনি।

ব্লাইন্ড এডুকেশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (বিইআরডিও) নির্বাহী পরিচালক সাইদুল হক বলেন, একজন প্রতিবন্ধী হিসেবে বলতে পারি, বাজেটে এই পদক্ষেপ ভালো হয়েছে, এটা সন্দেহ নাই। সরকার প্রতিবন্ধীবান্ধব, আমাদের বলতে হয়। প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ানোর আশা করলেও সেটা না থাকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ আছেন, তাদের পক্ষে কাজ করা সম্ভব না। খরচ অনেক বেশি, ওষুধ-যাতায়াত অন্যদের তুলনায় অতিরিক্ত।

ভালো একটা ভাতা দাবি করেছিলাম। ৭৫০ টাকা থেকে যাতে ৩ হাজার করার কথা বলছিলাম। ৩ হাজার না দিলেও আশা করেছিলাম বাড়বে। প্রতিবন্ধী জীবনবীমার পাশাপাশি তাদের জন্য মেডিকেল কার্ড প্রবর্তনের দাবি প্রতিবন্ধী ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে করে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বেসরকারি খাতের জন্য প্রতিবন্ধী কর্মসংস্থান বাড়ানোর এই উদ্যোগের মধ্যে সরকারি খাতে নিয়োগ সেভাবে হচ্ছে না বলে হতাশা রয়েছে তাদের।