এখন থেকে যেকোনও কোম্পানির আর্থিক হিসাব যাচাই করতে পারবে এনবিআর টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ২১২৫ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এডিবিগ্রামীণ ব্যাংকের ৬৭ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকিআপাতত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৫% আয়কর নেওয়া যাবে নাসৌদি আরবের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা চায় বাংলাদেশ
No icon

ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের ৪১ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি

রাজধানীর গুলশানের ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (ফু-ওয়াং ক্লাব) ব্যবসায়িক কার্যক্রম তদন্তে ৪১.০৮ টাকার ভ্যাট ফাঁকি উদ্ঘাটন করে ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বিপুল ভ্যাট ফাঁকির প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার সংক্রান্ত মানি লন্ডারিং অপরাধ অনুসন্ধান করার জন্য শুল্ক  গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান।

ফু-ওয়াং ক্লাব মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিয়ে বার পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটির বারে অ্যালকোহল পণ্য এবং রেস্তোরাঁয় খাবার বিক্রি করা হয়।

মইনুল খান জানিয়েছেন, অনুসন্ধানে ব্যাংক থেকে ফু-ওয়াং ক্লাবের আর্থিক প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেট থেকে তাদের ভ্যাট পরিশোধ সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। আর্থিক প্রতিবেদন ও ভ্যাটের চালানসহ অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, ফু-ওয়াং বার বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকির সঙ্গে জড়িত। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির বারে যেসব মদ ও মদজাতীয় পণ্য সংগ্রহ এবং বিক্রি হয়েছে, সেখানে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য শুল্ক  গোয়েন্দা অধিদপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে।

ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আরও জানান, তদন্তকালীন ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে ফু-ওয়াং বার কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানালে তারা কোনো ব্যাখ্যা দিতে আগ্রহ দেখায়নি। বারবার নোটিশ দিলেও চাহিদা অনুযায়ী নথিপত্র দেয়নি। প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক অডিট রিপোর্টে বিক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১৬২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট আরোপযোগ্য বিক্রয় মূল্য নির্ণয় করা হয় ১৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। কিন্তু তাদের দাখিলপত্রে বিক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে দুই কোটি ২৬ লাখ টাকা। ফলে ফু-ওয়াং কর্তৃপক্ষ ১৩৯ কোটি ২৭ লাখ টাকা বিক্রির তথ্য গোপন করেছে। এতে ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে ২০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এই ফাঁকির ওপরও ভ্যাট আইন অনুসারে মাসিক ২ শতাংশ হারে ১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা সুদ প্রযোজ্য। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি উৎসে কর্তন খাতে ভ্যাট পরিশোধ করেনি। স্থান-স্থাপনা ভাড়ার বিপরীতেও ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। সামগ্রিকভাবে ফু-ওয়াংয়ের অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ২৩ কোটি ৭১ লাখ এবং এই অপরিশোধিত ভ্যাটে সুদ ১৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ফলে ভ্যাট বাবদ ৪১ কোটি টাকা পাওনা দাঁড়িয়েছে সরকারের। ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফেরদৌসী মাহবুবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল এই তদন্ত করে। ভ্যাট নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তদন্ত এবং ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে ফু-ওয়াং ক্লাবের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।