সামাজিক নিরাপত্তায় বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ কোটি টাকাআগামী বাজেট দরিদ্রদের জন্য: অর্থমন্ত্রীসেবা পেতে রিটার্ন জমা স্লিপ বাধ্যতামূলক হচ্ছেএনবিআর লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়েব্যবসায়ীদের কাছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব চাইল এনবিআর
No icon

অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে ৮৩৪২ কোটি টাকা

বেসরকারি বাণিজ্যিক যান্ত্রিক এবং অযান্ত্রিক সড়ক ও নৌযান জরিপ করে এই তথ্য পেয়েছে বিবিএস। গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবন মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ইয়ামিন চৌধুরী, বিবিএস মহাপরিচালক তাজুল ইসলামসহ অন্যরা। আর জরিপের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক তোফায়েল আহমেদ।

জরিপে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে না থাকলেও গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি বিকাশ হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটো বা টমটমের। এই খাত থেকে প্রতিবছর অর্থনীতিতে ২২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা যোগ হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে যোগ হচ্ছে ১৫ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা।

রাইডশেয়ারে অর্থনীতিতে যোগ হচ্ছে ৮৩৪২ কোটি টাকা
অ্যাপভিত্তিক যাত্রী পরিবহন (রাইডশেয়ার) সেবার জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ জেলা শহরেও ছড়িয়ে যাচ্ছে রাইডশেয়ার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, প্রতিবছর রাইডশেয়ারের মাধ্যমে অর্থনীতিতে 8 হাজার ৩৪২ কোটি টাকা যোগ হচ্ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল থেকে যোগ হচ্ছে ৭ হাজার ২৪৯ কোটি টাকা। ১ হাজার ৯৩ কোটি টাকা যোগ হচ্ছে কার থেকে। যদিও নতুন এসব খাতের অবদান বছর শেষে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধিতে যোগ হচ্ছে না।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বেসরকারি বাণিজ্যিক যান্ত্রিক এবং অযান্ত্রিক যানবাহন নিয়ে এর আগে ২০০৯ সালে জরিপ করা হয়েছিল। ১০ বছর পর এই জরিপটি আবার করা হয়েছে। গত এক দশকে সড়ক পরিবহনে নতুন কিছু খাত তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে অ্যাপটির রাইডশেয়ার, ব্যাটারিচালিত অটো, ব্যাটারিচালিত রিকশা। এসব খাত অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। কিন্তু জিডিপিতে যোগ হচ্ছে না। আগামী অর্থবছর যখন জিডিপির ভিত্তিবছর পরিবর্তন করা হবে, তখন নতুন নতুন এসব খাত সেখানে যোগ হবে। তাতে জিডিপির আকার আরও বাড়বে।
জরিপে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে না থাকলেও গত এক দশকে সবচেয়ে বেশি বিকাশ হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটো বা টমটমের। এই খাত থেকে প্রতিবছর অর্থনীতিতে ২২ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা যোগ হচ্ছে। ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে যোগ হচ্ছে ১৫ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। নতুন যেসব খাত সড়কে যুক্ত হয়েছে, তা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ হয়, তখন এই খাতের জিডিপির আকার ১১ শতাংশ বাড়বে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জিডিপির তথ্য উপাত্ত নিয়ে এই জরিপ করেছে বিবিএস।

জরিপে দেখা গেছে, সড়কে যান্ত্রিক ও অযান্ত্রিক মিলে এখন মোট ২৭ লাখ যানবাহন আছে। এর মধ্যে ৯১ শতাংশ বা ২৪ লাখ ২২ হাজার হচ্ছে যাত্রীবাহী পরিবহন। এ ছাড়া মালবাহী পরিবহন আছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ১২৯টি। তথ্য বলছে, সড়ক পরিবহনের সঙ্গে এখন মোট ৩৩ লাখের মতো জনবল সম্পৃক্ত আছে। এর মধ্যে যাত্রীবাহী পরিবহনের সঙ্গে আছে ২৯ লাখ। বাকি চার লাখ সম্পৃক্ত আছে মালবাহী পরিবহনের সঙ্গে।

বিবিএসের জরিপে দেখা গেছে, সড়ক পরিবহনে সবচেয়ে বেশি আছে চালক। সংখ্যায় ২৭ লাখ। দেশে এখন রাশিয়ার গাড়ি আছে ১৫ হাজার ২৭৬টি। আর রাইডশেয়ার মোটরসাইকেল আছে সোয়া ১ লাখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব বলেন, তিনি বলেন, পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা আছে। এটা ঠিক। যত্রতত্রভাবে গাড়ি নামানো হচ্ছে। সড়ক ও নৌ খাতে কত সংখ্যক যানবাহন আছে, তা আমরা এই জরিপের মাধ্যমে জানতে পারলাম। যা ভবিষ্যতে যেকোনো পরিকল্পনা প্রণয়নে কাজে লাগবে। আমরা জিডিপির নতুন ভিত্তিবছর তৈরি করছি। সড়কে নতুন নতুন অনেক খাত যোগ হয়েছে। তাদের অবদান জিডিপিতে যোগ হয় না। ভিত্তিবছর পরিবর্তন করলে এসব অবদান যোগ হবে।