নতুন রপ্তানি নীতির খসড়া অনুমোদনপ্রণোদনার অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা দুই কোটি টাকা খরচ করে ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালু : এনবিআরচলতি অর্থবছরে কালোটাকা সাদা করায় তেমন সাড়া মিলছে না ৬৩% টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেননি এ
No icon

জ্বালানি তেলের মূল্য আরও বৃদ্ধির শঙ্কা, উত্তোলন বাড়াচ্ছে না ওপেক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে। কদিন পরপরই দামের নতুন রেকর্ড হচ্ছে। ইতিমধ্যে দাম বেড়ে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। তার জেরে বাংলাদেশের বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তেলের এ উচ্চ মূল্যের কারণে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা বিশ্লেষকদের।

অর্থনীতিবিদ থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদ সবাই এখন কমবেশি একই কথা বলছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউস সোজাসাপটা বলে দিয়েছে, দাম বৃদ্ধির দায় নিতে হবে ওপেকসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে। মূলত এরা তেল উত্তোলন বৃদ্ধি করতে চায় না বলেই পাঁচ মাস ধরে তেলের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। বিশ্বের বৃহত্তম তেল ক্রেতাদের বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও ওপেকসহ রাশিয়া এ ব্যাপারে এককাট্টা যে তেল উত্তোলন বাড়ানো যাবে না। এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো কৌশলগত রিজার্ভ বা সংরক্ষণাগার থেকে বাজারে জ্বালানি তেল ছাড়তে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের একজন কর্মকর্তা সম্প্রতি এক বিবৃতিতে বলেছেন, চাহিদা ও সরবরাহের গড়বড়ের কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া যেন ঝুঁকির মধ্যে না পড়ে। কিন্তু ওপেকসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন নিজেদের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সংকট নিরসনে রাজি নয়।

কয়েক বছর ধরেই তেলের বাজারে মন্দা চলছিল। করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে। বিধিনিষেধের কারণে চাহিদা হঠাৎ চাহিদা ব্যাপকভাবে কমায় গত বছরের এপ্রিলে জ্বালানি তেলের দাম মাইনাস ৩৭ ডলারে নেমে যায়। কিন্তু সেখান থেকে পরিস্থিতির অনেকটাই উত্তরণ ঘটেছে। করোনাভাইরাসের একাধিক ঢেউ চলে গেছে। ইউরোপ ছাড়া আর প্রায় সবখানেই ভাইরাস এখন নিয়ন্ত্রণে। ফলে পূর্ণগতিতে চলছে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার। বস্তুত গত বছরের শেষ দিকে যখন বিশ্ব প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে শুরু করে, তখন থেকেই তেলের দাম বাড়ছে। এখন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, ২০২২ সালের জুন মাসের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি তেল আমদানি করে চীন। তারপর ভারত। করোনার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায় এ দুটি দেশ গত কয়েক মাস টানা তেল আমদানি বাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীন কয়লা ছেড়ে তেলের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে চীনে অনুষ্ঠেয় শীতকালীন অলিম্পিক উপলক্ষে দেশটি বেইজিংয়ে দূষণ কমাতে চায়।