মেট্রোরেলে ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চায় আইপিডিস্বর্ণালংকারে ভ্যাট কমানোর দাবি বাজুসেরসিগারেটে কর বাড়ানোর আহ্বান এমপিদের আরও ৩ বছর কর সুবিধা পাচ্ছে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিসহজ কর ব্যবস্থা চান ব্যবসায়ীরা
No icon

সহজ কর ব্যবস্থা চান ব্যবসায়ীরা

আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট সামনে রেখে এক আলোচনায় ব্যবসায়ীরা দেশের কর ব্যবস্থা সহজ করার সুপারিশ করেছেন। কর আদায় প্রক্রিয়া আরও ব্যবসাবান্ধব করার পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য কর এবং সরকারের অন্যান্য নীতির ধারাবাহিকতা চেয়েছেন। নির্ধারিত করহারের চেয়ে যাতে কার্যকর করহার বেশি না হয়, সেদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন।গতকাল রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৪-২০২৫: বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা শিরোনামের এ আয়োজনে সহযোগিতা করে দৈনিক সমকাল এবং চ্যানেল টোয়েন্টিফোর। ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদের সঞ্চালনায় আলোচনায় সরকারের নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ এবং বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা আগামী বাজেট সামনে রেখে তাদের মতামত তুলে ধরেন।অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন, সহজ ও দ্রুততম সময়ে সেবা প্রদান এবং কার্যকর অবকাঠামো ও মানবসম্পদ উন্নয়নের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। এর জন্য রাজস্ব বৃদ্ধি, সরকারি ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আমদানি বিকল্প শিল্প প্রতিষ্ঠাসহ অন্যান্য উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আগামী বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বেসরকারি খাতের প্রসারসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সার্বিকভাবে আগামী বাজেট হবে বেসরকারি খাতের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক।

আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বর্তমান সরকার বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও প্রসারে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আয়কর, মূসক ও শুল্ক-সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন ও সংস্কারের মাধ্যমে কর কাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো, অটোমেশন, কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজীকরণ, ঋণের সুদহার যৌক্তিক করা, অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়ীদের জন্য নানা ধরনের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের অবদান ক্রমশ বাড়ছে। বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও প্রসারে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে গেলেও কিছু কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন প্রয়োজন। বাজেটে সে বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হবে। এ লক্ষ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ৫০ লাখ টাকার পরিবর্তে ১০ লাখ বা তার বেশি মূসক পরিশোধে ই-পেমেন্ট ও  ই-চালান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. আবুল কালাম আজাদ এমপি বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নীতির ধারাবাহিকতা না থাকলে বিদেশিদের অনেকে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখান না। বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ করে অভ্যস্ত। তবে বিদেশিরা ঝুঁকি নিতে চান না। তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য বন্ড ও বীমা খাতের উন্নয়ন দরকার। তবে বাংলাদেশে এই দুটি খাত অত্যন্ত দুর্বল হয়ে আছে। এখানে বিশেষ নজর দিতে হবে। স্মার্ট দেশ গড়তে হলে সরকারি-বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার দরকার রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, কর ব্যবস্থার আরও সহজীকরণ দরকার। অটোমেশন দিনকে দিন হচ্ছে। আরও দরকার। নতুন প্রজন্মের মধ্যে যেন ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি তৈরি না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। বাজেট এলেই সবাই বলে তার বরাদ্দ কম। অথচ বাস্তবায়ন চিত্র দেখলে দেখা যাবে অত্যন্ত নাজুক। আবার কোন খাত থেকে কেটে তাকে বরাদ্দ দেওয়া যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন করলে কোনো জবাব দিতে পারে না।বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ এমপি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। আমাদের এখানে ১ লাখ ২৫ হাজার বিদেশি নাগরিক কাজ করেন। বলা হয়ে থাকে, প্রতিবছর তারা ৪ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছেন। অথচ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনও উর্দু, পালি, সংস্কৃতির মতো বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হচ্ছে। কর্মসংস্থানে যা ভূমিকা রাখতে পারছে না। কর্মসংস্থান এবং রাজস্ব আয় বাড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হলে সুশাসনের কোনো বিকল্প নেই। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

এ. কে. আজাদ আরও বলেন, ৯ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে এখন ১৪ শতাংশ গুনতে হচ্ছে। বাড়তি এই সুদের কারণে অনেকে খেলাপি হয়ে পড়বে। আবার ডলারের সরকারি দর ১১০ টাকা বলা হলেও আমদানিতে কিনতে হচ্ছে ১২৪ টাকায়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ১২৪ টাকা ধরে শুল্কায়ন করছে। সরকারি অন্যান্য সংস্থা হিসাব করার সময় ডলারের দর ১১০ টাকা ধরে বলছে ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দর বাড়ায়। এ অবস্থার অবসান দরকার। যে কারণে ৯ শতাংশ সুদ ১৪ শতাংশে এবং ১১০ টাকার ডলার ১২৪ টাকায় কিনতে হচ্ছে, সেই নীতির সংশোধন করতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাংক খাতে এখন ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ দেখানো হচ্ছে। তবে অর্থনীতিবিদ মইনুল ইসলামের মতে, ব্যাংক খাতে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। বিভিন্ন ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে অনেক খেলাপি ঋণ নিয়মিত দেখানো হয়। সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশের ওপরে। ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীনতা দিতে হবে। কোনো অনিয়ম ধরার পর স্বাধীনভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।তিনি বলেন, ঋণ নিয়ে যারা বিনিয়োগ না করে বিদেশে নিয়ে গেছে, তাদের নাম-তালিকা প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি ব্যাংকে বিশেষ অডিট করে এ ধরনের তালিকা করতে পারে। তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করবে। সমাজে তারা চাপে পড়বে।