উৎসে কর ধীরে ধীরে প্রত্যাহারের পরামর্শআয়কর রিটার্ন দাখিলের সময় আরও এক মাস বাড়ছেরাজস্ব সক্ষমতা জোরদারে সমন্বিত ও কাঠামোগত কর সংস্কার জরুরি১০ খাতের টাকার হিসাব আয়কর রিটার্নে দেখাতে হয়আয়কর রিটার্ন জমার সময় আরও এক মাস বাড়ল
No icon

রাজস্ব সক্ষমতা জোরদারে সমন্বিত ও কাঠামোগত কর সংস্কার জরুরি

দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন চাহিদা পূরণে খণ্ডিত বা কেবল প্রশাসনিক উদ্যোগভিত্তিক সংস্কারের পরিবর্তে সমন্বিত ও কাঠামোগত কর সংস্কার জরুরি।বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। উন্নয়নের জন্য করনীতি: করব্যবস্থা পুনর্বিন্যাসের জন্য সংস্কার এজেন্ডা শীর্ষক প্রতিবেদনের ওপর এ সংবাদ সম্মেলন হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বিদ্যমান করব্যবস্থা অপ্রয়োজনীয়ভাবে জটিল ও অদক্ষ। করের আওতা সংকীর্ণ, কর প্রশাসন অত্যধিক কাগজ-কলম নির্ভর এবং পরোক্ষ করের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বিদ্যমান।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুসংহত ও সুশৃঙ্খল করনীতির ভিত্তি ছাড়া কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে টেকসই ও বিশ্বাসযোগ্য রাজস্ব আহরণ সম্ভব নয়। প্রান্তিক পর্যায়ের সংস্কার দিয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করা যাবে না।সরাসরি কর, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও বাণিজ্য কর- এই তিনটি প্রধান খাতে মোট ৫৫টি অগ্রাধিকারের নীতিগত বিষয় প্রতিবেদনটি চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে সরাসরি কর খাতে ৩২টি, ভ্যাটে ১০টি ও বাণিজ্য কর খাতে ১৩টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত।প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০-১২ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫-২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কর কাঠামোয় ভারসাম্য পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরাসরি করের অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানের ৭০:৩০ অনুপাত ধাপে ধাপে ৫০:৫০-এ উন্নীত করা হবে। সরাসরি কর থেকে রাজস্ব আদায় জিডিপির প্রায় আড়াই শতাংশ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে ৯-১০ শতাংশে উন্নীত হবে। মোট রাজস্ব আয়ে বাণিজ্য করের অংশ বর্তমানের প্রায় ২৮ শতাংশ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত শতাংশে নামানো হবে। কর-জিডিপি অনুপাত ১৫-২০ শতাংশে উন্নীত হলে এই হ্রাসকৃত হারেও বাণিজ্য কর থেকে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে।