রিটার্ন না দেওয়া বাড়িওয়ালাদের খুঁজতে বিশেষ অভিযান: এনবিআররেমিট্যান্সের ওপর কর প্রত্যাহারের দাবিদেশকে উন্নত করতে হলে অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে হবে : এনবিআর চেয়ারম্যানপাঁচ পণ্যের শুল্ক কমাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছেরিটার্ন জমা দেননি প্রায় অর্ধকোটি টিআইএনধারী
No icon

৪ বছরে ৬ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা

আগামী চার বছরে ৬ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। যার মধ্যে চলতি বছর ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, ২০২৫ সালে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা ও ২০২৬ সালে ২ লাখ ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ভ্যাট আদায় করা হবে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফকে এ তথ্যই জানিয়েছে এনবিআর। চলতি অর্থবছর বাদ দিয়ে মূসক খাত থেকে আগামী তিন অর্থবছরে (২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬) প্রায় ৫ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করার কথা জানানো হয়েছে। চলতি অর্থবছরকে ভিত্তি বছর হিসেবে ধরলে ২০২৬ সাল নাগাদ অতিরিক্ত প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার ভ্যাট আদায় করতে হবে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ভ্যাট থেকে রাজস্ব আয় করা অনেকগুলো শর্তের ওপর নির্ভরশীল। শর্তের কারণে চাইলেও এনবিআরের পক্ষে রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব হবে না।

চলতি (২০২২-২৩) অর্থবছরে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। গত এপ্রিল পর্যন্ত অর্থবছরের ১০ মাসে এ খাত থেকে আদায় হয়েছে ৮৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা, যদিও এসময়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে ৮ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমদানি-রপ্তানি কমে যাওয়ায় প্রবৃদ্ধির পরও চলতি বছর ভ্যাট আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতি থাকতে পারে।কোভিড-১৯ মহামারির ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ইউরোপে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দার ঢেউ লেগেছে। ছোটখাটো অর্থনীতির দেশের পাশাপাশি আমেরিকা, চীন এবং জাপানের মতো শক্তিশালী অর্থনীতির দেশও এ মন্দার রেশ কাটাতে পারছে না। দেশে বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে আমদানি ও রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে। দেশের অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে আইএমএফ থেকে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা নিয়েছে বাংলাদেশ। গত ফেব্রুয়ারিতে ঋণের প্রথম কিস্তি বাবদ ৪৭ কোটি ৬২ লাখ ৭০ হাজার ডলার পেয়েছে।

শুধু ঋণ পরিশোধই নয়, ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কারে মানতে হবে আইএমএফের প্রেসক্রিপশন বা শর্ত। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে নেট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহের ন্যূনতম স্তর নির্ধারণ, সরকারের বাজেট ঘাটতির ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণ, করছাড়ের ওপর বিস্তারিত নিরীক্ষা, বাজেটের নির্দিষ্ট অংশ সামাজিক ব্যয়ের জন্য রাখা এবং ক্রমান্বয়ে তা বাড়ানো ইত্যাদি। এসব শর্ত পূরণে অগ্রগতি জানতে কয়েক মাস পর পর দেশে আসছে আইএমএফের প্রতিনিধিদল।প্রথম ঋণ অনুমোদনের প্রায় তিন মাস পর ঋণের শর্তের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার জন্য গত এপ্রিলের শেষে একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। গত ২৫ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে বৈঠক করে প্রতিনিধিদল।